01/04/2026
২০২৫-২০২৬ করবর্ষে নির্ধারিত সময়ের (সাধারণত ৩০ নভেম্বর বা বর্ধিত সময়) মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী জরিমানা, সুদ এবং অতিরিক্ত করের বিধান রয়েছে। প্রধান জরিমানাসমূহ হলো: সর্বশেষ নিরূপিত করের ১০% বা ১,০০০ টাকা জরিমানা (যেটি বেশি) এবং বিলম্বের জন্য মাসিক ২% সুদ [৫, ৯, ১৩]।
২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য জরিমানার বিস্তারিত হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
১. আর্থিক জরিমানা (Penalty):
সর্বনিম্ন জরিমানা: রিটার্ন না দিলে বা বিলম্বে দিলে সর্বশেষ কর নির্ধারণের ১০ শতাংশ জরিমানা বা ১,০০০ টাকা—এ দুটির মধ্যে যেটি বেশি, সেটি জরিমানা হিসেবে গণ্য হবে [৫, ১২]।
দৈনিক জরিমানা: ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে বা সময়মতো রিটার্ন না দিলে পরবর্তী প্রতি দিনের জন্য ৫০ টাকা হারে জরিমানা আরোপ করা হতে পারে [৫, ৭, ৯]।
২. বিলম্বিত সুদ (Interest on Delay):
নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দাখিল করলে বকেয়া করের ওপর মাসিক ২% হারে সুদ বা বিলম্ব কর দিতে হবে [৯, ১৩]।
৩. অতিরিক্ত কর এবং অন্যান্য দায়:
বিনিয়োগ কর রেয়াত বাতিল: সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত (Investment Tax Credit) সুবিধা পাওয়া যাবে না [১১]।
সেবা বিচ্ছিন্নকরণ: কর কর্মকর্তা চাইলে করদাতার বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিতে পারেন [৯, ১১]।
স্বনির্ধারণী হার: সময়মতো রিটার্ন না দিলে সাধারণ করদাতা হিসেবে গণ্য হতে পারেন এবং আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়াটি জটিল হতে পারে [৬]।
জরিমানা এড়ানোর উপায়:
যদি কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে (সাধারণত ৩০ নভেম্বর, যদি না বাড়ায়) রিটার্ন দাখিল সম্ভব না হয়, তবে ই-রিটার্ন-এর মাধ্যমে অথবা সংশ্লিষ্ট কর অফিসে আবেদন করে সময় বাড়াতে হবে। ৩০শে নভেম্বরের পর এবং পরবর্তী বছরের জুনের আগে রিটার্ন দিলে তা "বিলম্বিত রিটার্ন" (Belated Return) হিসেবে গণ্য হবে, যা জরিমানা ও সুদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে [১৩]।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: কর আইন পরিবর্তনযোগ্য। সর্বশেষ তথ্যের জন্য সর্বদা এনবিআর (NBR)-এর অফিসিয়াল নির্দেশিকা অনুসরণ করুন। — at National Board of Revenue.