15/12/2022
ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।
খেলাধুলা নিয়ে করা আমাদের নিষ্পাপ ট্রলগুলো ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে এবং তা সংক্রামক রোগের মতই ছড়াচ্ছে।
আমাদের দেশে যারা ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করে, তারা কেউই ঐ দেশ সমূহের বাসিন্দা নয়, তারা আমাদের দেশেরই লোকজন। তারা আমাদের ভাই, বন্ধু, প্রতিবেশি, শুভাকাঙ্ক্ষী।
প্রত্যেকের নিজ নিজ পছন্দের প্রতি একটা ইমোশন গড়ে ওঠে এবং তা সহজাত। আপনি আমি যতই আমাদের নিজেদের পছন্দের প্রতি (সু/কু)যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করি না কেন, তাতে প্রতিপক্ষের কিছুই যায় আসে না। তার পছন্দের অনুকূলেও সে তার মন মতো অবশ্যই যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করে।
ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক দলের প্রতি আস্থা, কোন দেশের খেলার প্রতি অন্ধ আবেগ; এই সব বিষয়ের সাথে যুক্তির চেয়ে মানুষের ইমোশন বেশি জড়িত। মানুষ এগুলো নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়ে আবেগে খেই হারায়। এই লাগামহীন তর্ক বিতর্ক থেকেই বিভিন্ন জনের অনুভূতিতে বিভিন্নভাবে আঘাত লাগে যা খুবই সেনসিটিভ।
ধারনা করি, প্রিয়দল হেরে যাওয়ার দুঃখে নয়, প্রতিপক্ষের বন্ধুদের খোচার ভয়েই অনেকে হার্টফেল পর্যন্ত করে ফেলতে পারে। এর মানে হলো আমাদের করা নিষ্পাপ ট্রলগুলো কারও কারও মৃত্যুর কারন পর্যন্ত হতে পারে। সাইকোলজি তে বাটারফ্লাই ইফেক্ট নামে একটা থিউরি আছে, যার মাধ্যমে এটা খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে, আপনার আমার করা ট্রলগুলো কারো কারো জন্য হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটাতে পারে। কারন জীবনযুদ্ধে অনুকূল অবস্থায় থেকে আমরা জীবনকে যেভাবে দেখি, প্রতিকূল অবস্থায় থাকা আরেকজন হয়ত জীবনকে অন্যভাবে দেখে। জীবনযুদ্ধে বিপন্ন লোকটাও হয়ত তার প্রিয় দলের জয়ে অপার আনন্দ লাভ করে দুঃখ কষ্ট কে কিছুটা সময় ভুলে থাকতে পারে। আমাদের মোটেও উচিত নয় অন্যের ভাল থাকার সামান্যতম উপলক্ষকেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা।
শেষ করার আগে কোক স্টুডিও'র একটা জনপ্রিয় গানের কয়েকটা লাইন মনে পড়লো (যদিও অপ্রাসঙ্গিক)-
"রমেশ বলে মন ভেবে
স্বরূপ দেখা পাবো কবে
এইভাবে কি জনম যাবে বলোনা
নূরের পুতুলা বাবা মাওলানা"।