01/07/2026
আয়কর আইন, ২০২৩ | ধারা ৬৭: "অন্যান্য উৎস হতে আয়" – যে বিষয়গুলো করদাতার জানা অত্যন্ত জরুরি
অনেক করদাতা মনে করেন, শুধুমাত্র ব্যবসা, চাকরি বা সম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়ই করের আওতায় পড়ে। কিন্তু আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬৭ অনুযায়ী, বিভিন্ন বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু অর্থ "অন্যান্য উৎস হতে আয় (Income from Other Sources)" হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং করযোগ্য হয়ে যায়।
🔹 ধারা ৬৭-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
✅ হিসাবের বইয়ে এমন কোনো অজ্ঞাত উৎসের ক্রেডিট (Unexplained Credit) পাওয়া গেলে এবং তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে তা করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে।
✅ সম্পদ বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত ব্যয় ও অর্থের উৎসের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে অতিরিক্ত অংশ "অন্যান্য উৎস হতে আয়" হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
✅ ন্যায্য বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সম্পদ ক্রয় করলে বাজারমূল্য ও ক্রয়মূল্যের পার্থক্য করযোগ্য হতে পারে।
✅ চুক্তি বাতিল বা সংশোধনের কারণে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ, কমিশন, ফি বা গুডউইল করযোগ্য।
✅ লিজ বা ভাড়ার সেলামী/প্রিমিয়াম হিসেবে প্রাপ্ত এককালীন অর্থ করযোগ্য।
✅ কোনো সম্পদ ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য উৎসে কর (TDS) কর্তন বা সংগ্রহ না হলে, সেই অর্থও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে করযোগ্য হতে পারে।
✅ ঋণ মওকুফ (Loan Waiver) থেকে প্রাপ্ত লাভ সাধারণভাবে করযোগ্য; তবে আইন কিছু ব্যতিক্রমও নির্ধারণ করেছে।
✅ লটারি, অনলাইন গেম, শব্দজট, কার্ড গেম বা অনুরূপ প্রতিযোগিতায় জেতা অর্থ "অন্যান্য উৎস হতে আয়" হিসেবে গণ্য হবে।
✅ অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি যদি ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়া নগদে পরিশোধিত মূলধন গ্রহণ করে, তবে তা করযোগ্য হতে পারে।
✅ কোম্পানি বা অন্যান্য করদাতা ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যতীত ঋণ, অগ্রিম বা ডিপোজিট গ্রহণ করলে আইন অনুযায়ী তা আয় হিসেবে গণ্য হতে পারে।
✅ স্বাভাবিক ব্যক্তি ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়া ৫ লক্ষ টাকার বেশি ঋণ/অগ্রিম/ডিপোজিট গ্রহণ করলে সেটিও করযোগ্য হতে পারে। তবে স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, সন্তান এবং আপন ভাই-বোনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
✅ রিয়েল এস্টেট ব্যবসার বাইরে থাকা ব্যক্তি নির্মাণসামগ্রী বাকিতে কিনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল্য পরিশোধ না করলে তা করযোগ্য হতে পারে।
✅ সংশোধিত রিটার্নে নতুন করে করমুক্ত বা হ্রাসকৃত করহারের আওতাধীন আয় দেখানো হলে, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত অংশ "অন্যান্য উৎস হতে আয়" হিসেবে গণ্য হতে পারে।
ধারা ৬৭-এর মূল উদ্দেশ্য হলো—অপ্রদর্শিত আয়, অজানা উৎসের অর্থ, নগদ লেনদেন এবং কর ফাঁকির সুযোগ সীমিত করা এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
📌 পরামর্শ: বড় অঙ্কের লেনদেন, ঋণ, মূলধন গ্রহণ, সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের আগে একজন অভিজ্ঞ কর আইনজীবী বা কর পরামর্শকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। সঠিক পরিকল্পনা আপনাকে অপ্রয়োজনীয় করঝুঁকি ও জরিমানা থেকে রক্ষা করতে পারে।