18/05/2026
সম্পদ কর চালু হলে অর্থনীতিতে এবং রেভিনিউ তথা অভ্যন্তরীণ সম্পদ মবিলাইজেশনে খারাপ চিত্র দেখা যেতে পারে :
প্রথমত :সম্পদ কর, সম্পদ করের সুবিধা-অসুবিধা :
১। সম্পদ কর চালু করলে ইনভেসমেন্ট চলে যাবে
২।সাইফনিং হবে টাকা পয়সা অর্থাৎ রিপ্যাট্রিয়েশন হবে
টাকা পয়সা
৩।ক্যাশ ফ্লাইট হবে বেশি
৪।পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা চালু করেছিল কিন্তু বর্তমানে তারা বন্ধ করে দিয়েছে
৫।যে বৃদ্ধ মানুষটির সম্পদ আছে কিন্তু কোন আয় নাই
তিনি কেমনে দিবেন? কোত্থেকে দেবেন?
৬।নাগরিক অধিকারের উপর সম্পত্তি কর নাগরিক অধিকারকে খর্ব করবে, স্খলন হবে।
৭।একই সম্পদের উপর ফি বছর সম্পদ কর হলে জনগণের জন্য এই বোঝা মেনে নিতে কঠিন হবে।
৮।সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ত্বরান্বিত করতে সম্পদ করের বাড়তি কর সরকারের কাজে সহায়ক হলেও
ঋনাত্মক প্রভাব বেশি পড়বে।
৯।গৃহ -সম্পত্তি, এফডিআর, প্রভৃতি সাইফনী হবে।
দ্বিতীয়তঃ উদাহরণ :
১৯৯০ সালে, ইউরোপের প্রায় ১২টি দেশে বার্ষিক নিট সম্পদ কর (net wealth tax) চালু ছিল। তবে, ২০২০-এর দশকের মধ্যে তাদের প্রায় সবকটি দেশই এই কর বাতিল করে দেয়।
অধিকাংশ দেশেরই এই কর ব্যবস্থা বন্ধ করার পেছনের মূল কারণগুলো ছিল একই রকম: মূলধন পাচার বা দেশ থেকে পুঁজি চলে যাওয়া (বিনিয়োগকারীদের দেশত্যাগ), অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় এবং এই রূঢ় সত্যটি অনুধাবন করা যে, এই কর থেকে অত্যন্ত সামান্য রাজস্ব আসত, অথচ তা অর্থনীতির সক্রিয় ক্ষতি করছিল।
বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ এবং রাজস্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের কারণে যে সমস্ত উল্লেখযোগ্য দেশ সম্পদ কর চালু করার পর পরবর্তীতে তা বাতিল করে দিয়েছে, দেশগুলো হলো:
ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ড, স্পেন, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ,আয়ারল্যান্ড, ইতালি এবং
ইন্ডিয়া পর্যন্ত এর নেগেটিভ ইনপ্যাক্ট এর জন্য বন্ধ করে দেয়।
বালা বাহুল্য :
ফ্রান্সের ৬ টি পারমাণবিক চুল্লির বাজেট /রিএক্টরের দাম
প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ইউ এস ডলার আর আমাদের ৭ লক্ষ কোটি বাজেট এর ক্ষেত্রে টোটাল দেশের বাজেট মাত্র ৫৩ বিলিয়ন ডলার।
সুতরাং আমাদের অর্থনীতির আকার রাজস্বের উদ্দেশ্য
দুইজন নন্দিত অর্থমন্ত্রী
পরলোকগত মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এবং শহীদ এস এম এস কিবরিয়া (মহান আল্লাহ তাঁদের জান্নাতবাসী করুন) তাঁদের দূরদর্শী রাজস্ব নীতির আলোকে বর্তমান মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এম পি মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শ্রদ্ধান্তে
এ কে বোরহানউদ্দিন
বিসিএস (সপ্তম), ১৯৮৫ ব্যাচ
অবসরপ্রাপ্ত কর কমিশনার জাতীয় বোর্ড
Collected;