11/08/2026
🚨 ব্যাংকে আমানতের সুদ/মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনে কঠোর নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের!
💰 সঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত, মেয়াদি আমানত—সব ক্ষেত্রেই উৎসে করের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এক সার্কুলারে ব্যাংকগুলোকে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ/মুনাফার ওপর সঠিক হারে উৎসে কর কর্তন এবং নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।
📌 কী বলা হয়েছে সার্কুলারে?
১️. আমানতের সুদ/মুনাফায় উৎসে কর কর্তন বাধ্যতামূলক
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০২ অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহকের—
🔹 সঞ্চয়ী আমানত🔹 স্থায়ী আমানত🔹 মেয়াদি আমানত🔹 অন্যান্য আমানত
এর বিপরীতে পরিশোধিত সুদ/মুনাফার ওপর প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে।
অর্থাৎ, ব্যাংকে টাকা রেখে যে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়, সেটি সম্পূর্ণ অর্থ গ্রাহকের হাতে যাওয়ার কথা নয়—আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য উৎসে কর কর্তন করে বাকি অর্থ প্রদান করতে হবে।
⚠️ ২️. রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র না দিলে করের হার ৫০% বেশি!
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী, কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে করদাতা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (Proof of Submission of Return বা PSR) উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে—
👉 প্রযোজ্য উৎসে করের হারের চেয়ে ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) বেশি হারে উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহ করতে হবে।
অর্থাৎ, PSR-এর বিষয়টি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ।
🏦 ৩️. ব্যাংক কর্তন করা কর কখন সরকারি কোষাগারে জমা দেবে?
সার্কুলারে উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী সময়সীমাও স্পষ্ট করা হয়েছে।
📌 অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসে কোনো কর কর্তন/সংগ্রহ হলে—
➡️ কর্তন/সংগ্রহের মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
📌 অর্থবছরের জুন মাসের ১ম থেকে ২০তম দিনের মধ্যে কর কর্তন/সংগ্রহ হলে—
➡️ কর্তন/সংগ্রহের দিনের পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
📌 জুন মাসের অন্যান্য দিনে কর কর্তন/সংগ্রহ হলে—
➡️ পরবর্তী দিনেই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
⚠️ ব্যাংকের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কর্তৃক কর্তনকৃত উৎসে কর যেন নির্ধারিত সময়ের বেশি General Ledger বা অন্য কোনো হিসাবে সংরক্ষণ না করা হয়।
এছাড়া—
✅ নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে
✅ উৎসে কর কর্তনের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে
✅ প্রয়োজনীয় বিবরণী ও চালানের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে
✅ আয়কর আইন, ২০২৩ ও উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
🔥 করদাতাদের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকেই মনে করেন, “ব্যাংক আমার সুদ/মুনাফা থেকে কর কেটে নিয়েছে, এখানেই সব শেষ।”
কিন্তু বাস্তবে আয়কর রিটার্নে ব্যাংক সুদ/মুনাফার আয় এবং কর্তনকৃত উৎসে করের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে—
👉 ব্যাংক হিসাবের তথ্য
👉 আমানতের পরিমাণ
👉 সুদ/মুনাফার আয়
👉 কর্তনকৃত উৎসে কর
👉 PSR
👉 রিটার্নে প্রদর্শিত আয় ও সম্পদের তথ্য
এসবের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে ভবিষ্যতে কর সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
মনে রাখবেন—ব্যাংক শুধু টাকা রাখার জায়গা নয়; ব্যাংকের মাধ্যমে আপনার আয়, সুদ/মুনাফা এবং উৎসে করের তথ্যও কর ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে যাচ্ছে।
📢 তাই আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সুদ/মুনাফার সার্টিফিকেট এবং উৎসে করের তথ্য যাচাই করে রিটার্নে সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন।
আইন মেনে রিটার্ন দিন, ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়িয়ে চলুন।