03/11/2024
একটা অসম্ভব প্রেমের গল্প
শহরের একপ্রান্তে তার অফিস আর অন্যপ্রান্তে তার। প্রতিদিন একই পথে হেঁটে চলা, কিন্তু কখনো দেখা হয়নি তাদের। অথচ, একই ক্যাফেতে তারা চা খায়, একই বইয়ের দোকানে একই বই ধরে, তবুও কখনো চোখে চোখ পড়েনি। কেমন যেন এক অলিখিত দূরত্ব ছিল।
একদিন, হুট করেই একটা বৃষ্টির সন্ধ্যায় গল্পটা শুরু হয়। সে অফিস থেকে বের হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি ছাতা নিয়ে। আর ছাতাহীন মেয়েটি তাড়াহুড়ো করে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দাঁড়ায় তার পাশে। দুজনের চোখে চোখ। চোখে কিছু কথা, যা আগের কোনোদিনও তাদের কেউ বলেনি।
সে ছাতাটা এগিয়ে দেয়, মেয়েটি একটু হেসে বলে, "আমি ঠিক পৌঁছে যাব, ধন্যবাদ।" কিন্তু ছেলেটা তখন বলেছিল, "একটা গল্পের শুরু হতে চলেছে, যদি পাশে হাঁটেন তো!" মেয়েটির মুখে এক চিলতে হাসি, "গল্পের শুরুতে কার না আগ্রহ?"
সেই ছাতার নিচে দুজনের হাঁটা শুরু। ছোট ছোট কথাগুলো বড় গল্পে পরিণত হলো। সে জানল, মেয়েটি বই ভালোবাসে, আর মেয়েটি জানল, ছেলেটি বই লিখে। মেয়েটি জানল, ছেলেটির প্রিয় গান রবীন্দ্রসংগীত, ছেলেটি জানল, মেয়েটির গান শুনলে চোখে পানি চলে আসে।
দিনে দিনে ছেলেটি বুঝলো, মেয়েটি তার জীবনের সেই শূন্য জায়গাটা পূর্ণ করে দিচ্ছে। মেয়েটিও অনুভব করল, ছেলেটির এই শান্ত সঙ্গটা যেন তার জীবনে অনন্তকাল ধরে কামনা করেছে।
একদিন ছেলেটা তার ডায়েরি হাতে তুলে দিয়ে বলল, "তুমি আমার প্রতিটি পাতায় আছো। তুমি জানো?" মেয়েটি হেসে বলেছিল, "তুমি আমাকে ডায়েরিতে লিখো, আর আমি তোমাকে হৃদয়ে লিখি।"
সময় গড়িয়ে গিয়েছিল। একদিন তারা দুজনই বুঝতে পারলো, এই সম্পর্কটা শুধুই কথার, ছোঁয়ার নয়। কারণ মেয়েটির জীবন বাঁধা পড়ে গেছে অন্য কারো সাথে। ছেলেটা জানত, মেয়েটির সুখ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আর তাই মনের গভীরে রেখে দিল তার ভালোবাসা।
মেয়েটি বিদায়ের সময় বলেছিল, "তুমি আমার জীবনের এক অসমাপ্ত কবিতা হয়ে রইলে।" আর ছেলেটি শুধু বলেছিল, "অসমাপ্তই তো সুন্দর।"
আজও তারা একে অপরের জীবনে রয়ে গেছে, হয়তো জীবনের প্রতিটা ছোট মুহূর্তে। তবে সম্পর্কটা রয়ে গেছে ছাতার নিচের সেই হেঁটে যাওয়া গল্পের মতো, যা কখনো ফুরোয় না।
"এই অসমাপ্ত গল্পটাই হয়তো তাদের সবচেয়ে রোমান্টিক অধ্যায় ছিল, যেখানে ভালোবাসা হারায়নি, বরং আকাশে একখণ্ড মেঘের মতো, ভেসে থেকে যায় চিরকাল।"