26/05/2026
প্রশ্ন২ঃ কাল টাকা বা Black Money কাকে বলে? কাল টাকা সাদা করার উপায় কি?
উত্তরঃ
প্রশ্ন২ঃ কাল টাকা বা Black Money কাকে বলে? কাল টাকা সাদা করার উপায় কি?
উত্তরঃ
ব্ল্যাক মানি বা কাল টাকার কথা অনেকের মুখেই শুনা যায়। যদি প্রশ্ন করেন আসলে কাল টাকা কি? তাহলে দেখবেন অধিকাংশ লোকই সঠিক উত্তর দিতে পারবেন না। আবার অনেকে বলবেন কাল টাকা মানে অবৈধ টাকা। আসলে ব্যাপারটা এরকম না। কারণ একেবারে বৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা, কিংবা ইসলামী শরীয়া মোতাবেক অর্জিত টাকাও কাল টাকা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অতএব কাল টাকার সঠিক অর্থ বুঝতে হলে আমাদেরকে প্রথমে কাল টাকার সংজ্ঞা জানতে হবে। অতঃপর অবশ্যই ইনকাম ট্যাক্স এর কিছু টার্ম জানতে হবে, বিশেষ করে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন সম্পর্কে। Black Money বা কাল টাকাও income tax এ ব্যবহৃত একটি term.
আর ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন হলো আয়কর অফিস কর্তৃক প্রদত্ত (প্রেসক্রাইবড - Prescribed) কতগুলো ফরম যা পূরণ করে ইনকাম ট্যাক্স অফিসে জমা দিতে হয়।
ঐ ফর্ম গুলিতে আপনার সকল প্রকার সম্পদ সম্পত্তি, টাকা পয়সা, স্বর্ন গহনা, ব্যাংক ব্যালেন্স, ব্যাবসা বাণিজ্য, চাকুরি/ব্যাবসা/বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয় ইত্যাদি সবকিছুই উল্লেখ করতে হয়।
কিন্তু অনেকে ট্যাক্স এর ভয়ে এই সম্পদ সম্পত্তি উল্লেখ করতে চায়না। আসলে সম্পদের জন্য কোন ট্যাক্স দিতে হয়না। ট্যাক্স দিতে হবে চাকুরি/ব্যাবসা/বা অন্য কোন উৎস থেকে অর্জিত বার্ষিক আয়ের উপর।
সেই বার্ষিক আয় যদি নির্দিষ্ট সিমা বা পরিমাণ অতিক্রম করে তবেই কেবল ট্যাক্স দিতে হবে। যেমন ধরুন ২০২৬-২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী সেই সিমা পুরুষের জন্য ৩৭৫,০০০/- এবং মহিলাদের জন্য ৫০০,০০০/- টাকা। অর্থাৎ বার্ষিক আয় এর বেশী হলে ট্যাক্স দেওয়া বাধ্যতামূলক, অন্যথায় নয়।
এখন মূল কথায় আসি। কাল টাকা হলো সেই সম্পদ বা টাকা যা ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে বা ফর্ম গুলিতে উল্লেখ করা হয় নাই অর্থাৎ প্রদর্শন করা হয় নাই (অপ্রদর্শিত সম্পদ - undisclosed money)। তার মানে হলো যদি সম্পদ বৈধ উপায়েও অর্জিত হয় কিন্তু আয়কর অফিসে প্রদর্শন করা না হয় তবে তা black Money হিসেবে বিবেচিত হবে।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে সম্পদের জন্য তো কোন ট্যাক্স দিতে হয়না, তাহলে তা উল্লেখ করতে আপত্তি কেন? এর কারণগুলি নিম্নরূপঃ
(১) অজ্ঞতার কারণে এবং ইনকাম ট্যাক্স এর ভয়ে অনেকে প্রকৃত এবং বৈধ সম্পদও প্রদর্শন করে না। আমি একজন (Lawyer) লয়ারকে দেখেছি একটি কোম্পানির হিসাবে যেখানে ৩২ কোটি টাকা, সেখানে সে ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে মাত্র ১০ লক্ষ টাকা দেখিয়েছে। আর এই নিয়ে আমার সাথে অনেক বাকবিতন্ডাও হয়েছে।
কারণ ব্যাপারটি যদি আয়কর অফিস ধরা পড়ে তাহলে কোম্পানির কয়েকশ' কোটি টাকার জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
(২) অবৈধ উৎস যেমন - ঘুষ, দুর্নীতি, অবৈধ ব্যবসা, চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থ প্রদর্শনে বিরত থাকে অবৈধ উৎসগুলিকে লুকিয়ে রাখার জন্য।
(৩) আপনি যে সম্পদ দেখাবেন আয়কর অফিস তার ডকুমেন্ট বা evidence বা প্রমাণ চাইতে পারে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের গ্ৰহনযোগ্য কোন ডকুমেন্ট দেখানো সম্ভব হবেনা।
অতএব বিভিন্ন কারণে সব সম্পদ রিটার্ন এ দেখানো হয় না এবং এই ভাবে ব্যাবসায়ী ও উচু শ্রেনীর লোকদের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ ব্ল্যাক মানি হিসেবে পুঞ্জিভূত আছে।
এই বিপুল পরিমাণ ব্ল্যাক মানিকে কাজে লাগাইবার জন্য সরকার মাঝে মাঝে কিছু পলিসির আস্রয় নেয় যেন সেই টাকা গুলো দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা যায়।
কাল টাকা সাদা করার উপায়ঃ
(১) বর্তমানে চালু আছে, যদি কেউ স্থানীয় ভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা পাওয়ার ষ্টেশন স্থাপন করে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তাহলে ঐ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে যত টাকাই খরচ হোক তার কোন হিসাব দিতে হবে না এবং ২০ বছর পর্যন্ত কোন ট্যাক্স ও দিতে হবে না।
এরকম আরও অপশন আছে এবং প্রতি বছর বাজেটের সময় তা পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়।
এখন যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মতো কারো কাছে যথেষ্ট কাল টাকা থাকে তাহলে এই সুযোগে ঐগুলুকে সাদা করতে পারবে। অর্থাৎ সরকারের দেওয়া পলিসি অনুযায়ী কাল টাকা গুলো ব্যবহার করে ফেললেই সাদা হয়ে যাবে।
(২) অনেক সময় কিছু জরিমানা কিংবা বাড়তি কর আদায়ের মাধ্যমে ঐ সকল কাল টাকাকে সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়। সচেতন ব্যক্তিগন এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেন। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে এখন পর্যন্ত এই সুযোগটি বন্ধ আছে।
(৩) এতদিন যেই সম্পদ গুলো ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন এ দেখানো হয় নাই, পরবর্তী রিটার্ন দাখিল করার সময় যদি তা দেখিয়ে দেন তাহলেও তা সাদা হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাপারটা এতো সহজ নয়। কারণ যথাসময়ে তা না দেখানোর জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল এবং কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে (অপ্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ অনুযায়ী)।
সুতরাং (১) নং পন্থাটাই সবচেয়ে উত্তম এবং এই রকম আরো কোন সুযোগ আছে কি না তা খুজে দেখতে হবে।
তবে যেহেতু প্রতি বছর বাজেট এর সময় এই নিয়ম কানুন গুলোর পরিবর্তন হয় সেই জন্য আপনাকে অবশ্যই একজন ভাল ইনকাম ট্যাক্স এডভাইজর এর সাথে পরামর্শ করতে হবে।