10/08/2026
সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত করদায় প্রত্যাহার
সম্পত্তি হস্তান্তর থেকে অর্জিত মূলধনি আয়ের ক্ষেত্রে আগে চূড়ান্ত করদায়ের বিধান ছিল। বর্তমানে সেই সুবিধা নেই।
এখন সম্পত্তি কত বছর ধারণ করার পর বিক্রি করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে করহার নির্ধারিত হবে-
অধিগ্রহণের ৫ বছরের মধ্যে বিক্রি করলে মূলধনি আয় মোট আয়ের সঙ্গে যোগ হবে এবং নিয়মিত স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হবে।
অধিগ্রহণের ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর বিক্রি করলে মূলধনি আয়ের ওপর ১৫% হারে কর দিতে হবে।
উদাহরণ-১: পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর বিক্রয়
একজন ব্যক্তি ৭ বছর আগে ১৫ লাখ টাকায় কেনা একটি জমি ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।
বিক্রয়মূল্য: ৫০,০০,০০০ টাকা
অধিগ্রহণমূল্য: ১৫,০০,০০০ টাকা
মূলধনি আয়: ৩৫,০০,০০০ টাকা
যেহেতু জমিটি ৫ বছরের বেশি সময় ধারণ করার পর বিক্রি করা হয়েছে-
৩৫,০০,০০০ × ১৫% = ৫,২৫,০০০ টাকা
ধরা যাক, রেজিস্ট্রেশনের সময় বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫% হারে ২,৫০,০০০ টাকা উৎসে কর পরিশোধ করা হয়েছে। এটি অগ্রিম কর হিসেবে সমন্বয় হবে।
তাহলে রিটার্নের সঙ্গে অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে-
৫,২৫,০০০ - ২,৫০,০০০ = ২,৭৫,০০০ টাকা
উদাহরণ-২: পাঁচ বছরের মধ্যে বিক্রয়
একই জমি যদি ৭ বছর পর নয়, বরং সাড়ে ৪ বছর পর বিক্রি করা হতো, তাহলে ৩৫ লাখ টাকার মূলধনি আয় নিয়মিত আয়ের সঙ্গে যোগ হতো।
করদাতার অন্য কোনো আয় নেই ধরে নিয়মিত স্ল্যাবে কর দাঁড়াবে-
৬,৬৫,০০০ টাকা
উৎসে পরিশোধিত কর ২,৫০,০০০ টাকা সমন্বয় করার পর অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে-
৬,৬৫,০০০ - ২,৫০,০০০ = ৪,১৫,০০০ টাকা
অর্থাৎ, শুধু সম্পত্তি ধারণের সময়ের পার্থক্যের কারণে অতিরিক্ত কর দিতে হবে-
৬,৬৫,০০০ - ৫,২৫,০০০ = ১,৪০,০০০ টাকা
আবার আগের চূড়ান্ত করদায়ের বিধান বহাল থাকলে রেজিস্ট্রেশনের সময় পরিশোধিত করেই দায় শেষ হয়ে যেত। সেটি প্রত্যাহারের ফলে প্রথম উদাহরণে করদাতাকে অতিরিক্ত ২,৭৫,০০০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সম্পত্তির দলিলমূল্য, প্রকৃত বিক্রয়মূল্য এবং দলিলমূল্যের বাইরে অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিধান রয়েছে। সেগুলো এখনো কার্যকর।
রেফারেন্স: ধারা ১৬৩ এবং সপ্তম তফসিলের দফা ১(গ)।
মোঃ রাসেল
কর আইনজীবী
(এনবিআর সার্টিফাইড)
০১৮১২-৮৪৬৩৫০