09/09/2026
খেয়াল করে দেখেন, চেকের Bearer শব্দটা কেটে দেয়া হয়েছে ❌
Bearer শব্দটা কেটে দেয়ার কারণে আইন অনুযায়ী এই চেকটাকে বলা হয় Order চেক বা হুকুম চেক।
আর যদি Bearer শব্দটা কেটে দেয়া না হতো তাহলে এই চেকটাকে বলা হতো Bearer চেক বা বাহক চেক।
এই চেকের ৩টা পক্ষ রয়েছে।
১। একাউন্ট হোল্ডার (আইনের ভাষায় আদেষ্টা বা Drawer): এখানে মি. সোহাগ হলো আদেষ্টা।
২। ব্যাংক (আইনের ভাষায় আদিষ্ট বা Drawee): এখানে ব্রাক ব্যাংক হলো আদিষ্ট।
৩। প্রাপক (আইনের ভাষায় payee): এখানে প্রদীপ কুমার বর্মণ হলো প্রাপক।
সহজ ভাষায় যদি বলি, মি. সোহাগ ১১,১০,০০০ টাকা প্রদীপ কুমার বর্মণ নামক ব্যক্তিকে প্রদানের জন্য ব্রাক ব্যাংককে আদেশ দিয়েছেন।
যদি Bearer শব্দটা কেটে দেয়া না হতো তাহলে প্রদীপ কুমার বর্মণ ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি এ চেকটা বহন করে ব্যাংকে নিয়ে গেলে টাকা উত্তোলন করতে পারতেন।
Pay to এর পর প্রদীপ কুমার বর্মণ এর নাম লেখা থাকার পরও পারতেন, কারণ তখন Bearer শব্দটা একটিভ থাকবে তাই।
অর্থাৎ কেটে দেয়ার কারণে চেকটা হারিয়ে গেলেও যে কেউ টাকা তুলতে পারবেন না, শুধু প্রদীপ কুমার বর্মণ নামক ব্যক্তি পারবেন।
এখানে একটা টুইস্ট আছে!
একাউন্ট হোল্ডার মি. সোহাগ কোন প্রদীপ কুমার বর্মণকে টাকা দিতে আদেশ করেছেন সেটা কিন্তু চেকে উল্লেখ করেননি।
তাই, প্রদীপ কুমার বর্মণ নামক কেউ এই চেক যথানিয়মে উপস্থাপন করলেই ব্যাংক টাকা দিতে বাধ্য।
তবে যে প্রদীপ কুমার ব্যাংক কাউন্টারে এসেছেন তিনি যথানিয়মে এই চেকের মালিক হয়েছেন কিনা সেটা চাইলে ব্যাংক যাচাই করতে পারে।
তাই পেমেন্ট করার আগে মাঝেমধ্যে একাউন্ট হোল্ডারকে কল দেয়। যদিও এইরকম কল করতে ব্যাংক বাধ্য না। সে সরল বিশ্বাসে কোনোরূপ অবহেলা ব্যতিরেকে পেমেন্ট করতে পারে।
ব্যাংকের দায়িত্ব হলো জাস্ট এটা নিশ্চিত করা যে, যিনি চেক প্লেস করেছেন তার নাম প্রদীপ কুমার।
এই জিনিসটা শিউর হওয়ার জন্যই ব্যাংক প্রদীপ কুমার এর ছবিযুক্ত আইডি কার্ড চায়। মানে NID বা পাসপোর্ট বা অন্যকোনো আইডি কার্ড।
এই চেকের একাউন্ট হোল্ডার মি. সোহাগ ইচ্ছে করলে প্রদীপ কুমার বর্মণ এর নামের পাশে তার NID নাম্বারও উল্লেখ করে দিতে পারবেন, সে সুযোগ আছে।
তখন ব্যাংক থেকে টাকা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রদীপ কুমারের NID চেক করে নির্ধারিত প্রদীপ কুমার বর্মণকেই টাকা দেওয়া হবে, অন্য কোনো প্রদীপ কুমার টাকা তুলতে পারবেন না, কারণ একজন মানুষের NID নাম্বার অন্যজনের সাথে মিলবে না।
এখন মনে করেন প্রকৃত প্রদীপ কুমার বর্মণই কোনো কারণে ব্যাংকে যেতে পারছেন না। তাহলে টাকা তোলার উপায় কী.?
এই অবস্থায় প্রাপক হিসেবে জনাব প্রদীপ কুমার বর্মণ এর যে অধিকার আছে সেটা তিনি অন্য কাউকে ট্রান্সফার করতে হবে।
চেকের ক্ষেত্রে এই ট্রান্সফারকে বলে Endorsement.
চেক লেনদেনে এই Endorsement এর সোজা বাংলা হলো অধিকার ট্রান্সফার। (অন্যান্য ক্ষেত্রে এনডোর্স্মেন্ট এর ভিন্ন বাংলা মিনিং আছে)
এখন, প্রাপক হিসেবে জনাব প্রদীপ কুমার বর্মণ এর যে অধিকার আছে সেটা তিনি এনডোর্স্মেন্ট এর মাধ্যমে অন্য কাউকে (ধরেন কবিরকে) দিতে পারেন।
এই এন্ডোর্সমেন্ট করার জন্য চেকের উল্টা পাশে কবির এর নাম লিখে জনাব প্রদীপ কুমার বর্মণকে ২টা সাক্ষর দিতে হবে।
এরপর কবিরও চাইলে আবার অন্য কাউকে একই উপায়ে Endorsement করতে পারবে।
এই এনডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া কতবার চলবে তা আইনে সীমাবদ্ধ করা হয়নি।
বিষয়টি এমন যে, চেকের উল্টো পাশে যদি খালি জায়গা শেষ হয়ে যায় তাহলে পৃথক কাগজ সংযুক্ত করেও এ এনডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া চালানো যাবে।
এতক্ষণ যে এনডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া নিয়ে আলাপ করলাম সেটা সাধারণ এনডোর্সমেন্ট।
এর বাইরেও আরেক প্রকার এনডোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া আছে সেটা হলো বিশেষ এনডোর্সমেন্ট।
থাক, সেটা নিয়ে আরেকদিন আলাপ করি…
আর শুনেন, এই চেকে কিন্তু তারিখও উল্লেখ করা হয়নি। তারিখ বিহীন চেক ব্যাংকে পাস হবে না! আবার তারিখ থাকলেও সে তারিখ থেকে ৬ মাস পর চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে সেটাও পাশ হবে না…