এখলাসুর রহমান এহিয়া

এখলাসুর রহমান এহিয়া For better service we are with you.

একজন বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন দেশের প্রধান নির্বাহীকে সুন্নাহ অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক...
01/06/2026

একজন বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন দেশের প্রধান নির্বাহীকে সুন্নাহ অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।

বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মাহকে কুরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একইসঙ্গে কুরআন নির্দেশ দেয় মানুষকে প্রজ্ঞা, উত্তম উপদেশ ও সুন্দর পন্থায় সত্যের দিকে আহ্বান করতে।

একজন আলেম যখন কোনো ব্যক্তি—তিনি সাধারণ মানুষ হোন বা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি—কে সুন্নাহ অনুসরণের কথা বলেন, তখন তিনি মূলত নববী দায়িত্বেরই একটি অংশ পালন করেন।

তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, কেন শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বা আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়নি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাজনৈতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণকারী অনেক ইসলামপন্থী দলও বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নকে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে উপস্থাপন করেনি। ফলে একজন অরাজনৈতিক আলেমের উপদেশকে সেই মানদণ্ডে বিচার করা কতটা যৌক্তিক, সেটিও ভেবে দেখা প্রয়োজন।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতভেদের কারণে অনেকেই পুরো কওমি আলেম সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। অথচ কওমি অঙ্গন কোনো একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক অবস্থানের নাম নয়; সেখানে মত ও পদ্ধতির বৈচিত্র্য রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বক্তব্যের দায় পুরো আলেম সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়।

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় প্রয়োজন পরস্পরকে দোষারোপ নয়, বরং দ্বীনের মৌলিক মূল্যবোধ—কুরআন, সুন্নাহ, প্রজ্ঞা, ন্যায়বিচার ও উত্তম চরিত্র—নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা। ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা যদি মূল নীতির দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে বিতর্কের অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে।

কুরআনের ভাষায়:
"তুমি তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।" (সূরা আন-নাহল: ১২৫)
এই নীতিই সম্ভবত আজ আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

31/05/2026

"এদেশে মহিষেও দুধ দেয়, মহিষেও চাষ করে, কিন্তু তার কাটামুন্ডু মাথায় নিয়ে সর্বাঙ্গে রক্ত মেখে যখন উঠোনময় নৃত্য করে বেড়াই, তখন ধর্মের দোহাই দিয়ে মুসলমানের সঙ্গে ঝগড়া করলে ধর্ম মনে মনে হাসেন, কেবল ঝগড়াটাই প্রবল হয়ে ওঠে। কেবল গরুই যদি অবধ্য হয় আর মোষ যদি অবধ্য না হয়, তবে ওটা ধর্ম নয়, ওটা অন্ধ সংস্কার।"

____ ঘরে বাইরে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই রবিঠাকুর লোকটাকে নিয়ে হয়েছে যত জ্বালা। মুখে দাড়ি, পরণে আফগানি মার্কা জোব্বা, আর যেসব কথাবার্তা লিখে গেছেন শুনলেই বোঝা যায় সেকু, মাকু, মোল্লাদের দালাল।

লোকটাকে কত করে বোঝালুম দেখুন মশাই এই ভারত হচ্ছে "মোদী"ফায়েড ইন্ডিয়া, এখানে হিন্দুরা আর আপনাদের মত ঘুমিয়ে থাকেনা, সব একদম রীতিমতো জেগে উঠেছে। এখানে শুধু সনাতন ধর্মের জয়জয়কার হবে।
বলে কিনা, "হিন্দুরা যখন ঘুমিয়ে ছিল তখনই দেশকে জ্ঞানবিজ্ঞানে, শিক্ষা-সংস্কৃতিতে আন্তর্জাতিক স্তরে শক্তিশালী করেছিল, ব্রিটিশকে দেশছাড়া করেছিল। এখন জেগে উঠে মসজিদের সামনে বাঁদর নাচ নেচে বেড়ানোকে দেশোদ্ধার ভাবছে।
ওসব হচ্ছে কর্পোরেটের মুনাফার জন্য ধর্মের মুখোশ, তাতে মানবতারই অপমান হচ্ছে।"

এই না বলে নিজের সাইড ব্যাগ থেকে একগাদা কিসব রিপোর্টের প্রিন্ট আউট বের করল।
আমি বললাম, "কী হে ঠাকুর, তোমার যুগে তো ইন্টারনেট, কম্পিউটার কিছুই ছিলনা, এসব প্রিন্ট আউট পেলে কোথায়?"
দাদু বললে, "দেখো বাপু, আমি হলাম নতুন যৌবনেরই দূত, চিরনতুনের প্রতিই যে আমার আগ্রহ। সব শিখে নিয়েছি"।

এরপরেই তিনি তার হাতের প্রিন্ট আউট থেকে গড়গড় করে পড়তে শুরু করে দিলেন। আপনারাও শুনুন তিনি কী বলছেন।

আল্লানা গ্রুপ (Allana Group) — ভারতের বৃহত্তম মোষের মাংস রপ্তানিকারক।
ভারতের সবচেয়ে বড় মোষের মাংস রপ্তানিকারক আল্লানা গ্রুপ ২০২৪-২৫ বছরে BJP-কে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা রাজনৈতিক ডোনেশন দিয়েছে।
যে চারটি ফার্মের মাধ্যমে ডোনেশন দেওয়া হয়েছে:
* Allanasons Private Limited
* Frigerio Conserva Allana Private Limited
* Frigorifico Allana Private Limited
* Indagro Foods Private Limited
মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই আল্লানা গ্রুপ BJP-কে সরাসরি ডোনেশন দিয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে ২ কোটি এবং পরের বছর ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে Electoral Bond-এর মাধ্যমে আবার ২ কোটি দেওয়া হয়। ২০২৩-২৪ সালে Frigerio Conserva Allana-র মাধ্যমে আরও ২ কোটি দেওয়া হয় এবং ২০২৪-২৫ সালে তা ১৫ গুণ বেড়ে হয় ৩০ কোটি।

২০১৯ সালে আয়কর বিভাগ আল্লানা গ্রুপের ১০০-এরও বেশি জায়গায় অভিযান চালায় এবং প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়। সেই অভিযোগের পরপরই কোম্পানি Electoral Bond কেনা শুরু করে।

ভারত ঘোষিত ভাবে সরাসরি গোমাংস নয়, বাফেলো (মহিষ) মাংস রপ্তানি করে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে "Carabeef" নামে পরিচিত।
২০২৩-২৪ এ বিফ এক্সপোর্ট হয় ৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ এ বেড়ে হয় ৩.৯২ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালে ভারতের বিফ এক্সপোর্ট ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
ভারতের প্রধান বাজার হল ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, মিসর, ইরাক, UAE ও সৌদি আরব। বর্তমানে আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চাহিদা বাড়ছে।
ভারতে বিফ এক্সপোর্টের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র (৪৩%) হল সনাতনী যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ।

ভারতের বৃহত্তম বিফ রপ্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির মালিক হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত। তেলেঙ্গানার রুদ্রক গ্রামে প্রায় ৪০০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত ভারতের বৃহত্তম কসাইখানাটি চালায় Al Kabeer Exports Pvt. Ltd. — যার মালিক হিসেবে Satish Saberwal-এর নাম পাওয়া যায়।
হিন্দু মালিকানাধীন উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলো হলো:
Arabian Exports Pvt. Ltd. — মালিক Sunil Kapoor (হিন্দু)
MKR Frozen Food Exports Pvt. Ltd. — মালিক Madan Abbott (হিন্দু)
Al Noor Exports Pvt. Ltd. — মালিক Sunil Sood (হিন্দু), কসাইখানা UP-তে
AOB Exports Pvt. Ltd. — মালিক O.P. Arora (হিন্দু), UP-তে
Standard Frozen Foods Exports Pvt. Ltd. — মালিক Kamal Verma (হিন্দু), UP-তে
Maharashtra Food Processing and Cold Storage — মালিক Sunny Khattar (হিন্দু)
লক্ষণীয়: হিন্দু ব্যবসায়ীরা তাদের কোম্পানিগুলোর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে আরবি বা মুসলিম-শোনানো রেখেছেন — Al-Kabeer, Arabian Exports, Al-Noor ইত্যাদি।

BJP বিধায়ক সংগীত সিং সোম, যিনি Dadri লিঞ্চিং-কাণ্ডের পর গো-রক্ষা আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন, তিনি নিজেই Al-Dua Food Processing Private Ltd নামক একটি হালাল মাংস রপ্তানি কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। কোম্পানিটির নিজস্ব ওয়েবসাইট অনুযায়ী এটি ভারত থেকে "হালাল মাংসের শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারক"।
সোম কোম্পানিটিতে ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পরিচালক ছিলেন এবং ভূমি ক্রয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন। এছাড়া তিনি আরও একটি মাংস প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি Al-Anam Agro Foods-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
প্রমাণ সামনে আসলে সোম দাবি করেন, "আমি ডিমও খাই না, মাংস ব্যবসা তো প্রশ্নই ওঠে না।" কিন্তু কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নথিতে তার নাম স্পষ্ট।

আমি এতক্ষণ হাঁ করে রবিঠাকুরের কথা শুনছিলাম।
তাকে প্রশ্ন করলাম, তাহলে আপনি বলতে যান বিজেপি যদি সত্যিই সনাতনী হিন্দুদের পার্টি হয়ে থাকে তাহলে সারাদেশে এইসব স্লটার হাউস বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
তিনি 'দেওয়া নেওয়া' সিনেমার কমল মিত্রের স্টাইলে বললেন, "বলতে চাই নয়, বলছি"।
Prabir Ghosh প্রবীর ঘোষ মহাশয়ের ওয়াল থেকে নেওয়া।।

28/05/2026
23/05/2026

#আত্মশুদ্ধি

সক্রেটিস বলেছিলেন— “Know thyself”, নিজেকে জানো।

মানবসভ্যতার দীর্ঘ চিন্তাযাত্রায় এই সংক্ষিপ্ত বাক্যটি এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসার দরজা খুলে দেয়। মানুষ বাইরে পৃথিবী জয় করতে চেয়েছে, কিন্তু নিজের ভেতরের জগতকে জানা সবসময়ই সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে থেকেছে।

ইসলামও মানুষকে সেই অন্তর্জগতের দিকেই ফিরিয়ে নেয়— তবে শুধু জানার জন্য নয়, শুদ্ধ হওয়ার জন্য।

কুরআন মানুষকে তার নফসের দিকে তাকাতে শেখায়। কারণ মানুষের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ বাইরের নয়; ভেতরের। অহংকার, লোভ, হিংসা, রিয়া, ক্রোধ কিংবা কামনা— এদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রামই তাযকিয়ায়ে নফসের পথ। মানুষ যখন নিজের দুর্বলতাগুলো চিনতে শেখে, তখনই তার মাঝে বিনয় জন্মায়। সে বুঝতে পারে— সে পরিপূর্ণ নয়, বরং এক অবিরাম সংশোধনের যাত্রী।

আত্মশুদ্ধি মানে নিজেকে ঘৃণা করা নয়; বরং নিজের ভেতরের অন্ধকারকে চিনে আলোর দিকে এগিয়ে যাওয়া। যে ব্যক্তি নিজের নফসকে প্রশ্ন করতে পারে, সে অন্যের দোষ খোঁজায় ব্যস্ত থাকে না। তার চোখে পৃথিবী বদলানোর আগে নিজেকে বদলানো জরুরি হয়ে ওঠে।

তাযকিয়ায়ে নফসের এই পথ নিছক দার্শনিক অনুশীলন নয়; এটি ইবাদতেরও অংশ। নামাজ, সিয়াম, তিলাওয়াত, জিকির— সবকিছুর লক্ষ্য মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা। কারণ হৃদয় শুদ্ধ হলে দৃষ্টি শুদ্ধ হয়, দৃষ্টি শুদ্ধ হলে আচরণও সুন্দর হয়।
নিজেকে জানা তাই শেষ পর্যন্ত নিজের সীমাবদ্ধতা জানা। আর সেই সীমাবদ্ধতার গভীরে দাঁড়িয়েই মানুষ তার রবের অসীমতা অনুভব করে।

হয়তো এ কারণেই আত্মজিজ্ঞাসার প্রকৃত পরিণতি আত্মশুদ্ধি, আর আত্মশুদ্ধির প্রকৃত পরিণতি আল্লাহর নৈকট্য।

 #কাঠাল_পাখির_গল্পবৈশাখের রোদে যখন গ্রামের আঙিনায় আমের গন্ধ ভাসে, উঠানে কাঁঠাল পাকে, তখন বাংলার বহু ঘরে একসময় শুরু হত “ন...
09/05/2026

#কাঠাল_পাখির_গল্প

বৈশাখের রোদে যখন গ্রামের আঙিনায় আমের গন্ধ ভাসে, উঠানে কাঁঠাল পাকে, তখন বাংলার বহু ঘরে একসময় শুরু হত “নাইওর” এর আয়োজন। বিবাহিত মেয়েরা বাপের বাড়ি ফিরত, আর ভাইয়েরা যেত তাদের স্নেহভরে নিয়ে আসতে।

সিলেটের লোককথায় তেমনই এক বোন আর ভাইয়ের করুণ গল্প আজও বেঁচে আছে “কাঠল পাখি”র ডাকে।

লোকমুখে শোনা যায়—

এক গ্রামে ছিল এক ভাই ও এক বোন। বছর ঘুরে বৈশাখ এলো। গাছে গাছে আম-কাঁঠাল পেকেছে। বোন পথ চেয়ে আছে— তার ভাই আসবে, তাকে নাইওরে নিয়ে যাবে।

ভাইও বের হয়েছিল বোনকে আনতে। হাতে হয়তো ছিল ছোট্ট কোনো উপহার— কাঁচা আম, শাড়ি, কিংবা মায়ের পাঠানো পিঠা। কিন্তু বোনের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই তাকে পার হতে হয়েছিল এক গভীর জঙ্গল।
সেই জঙ্গলেই ঘটে বিপদ।

ডাকাতদলের হাতে পড়ে অসহায় ভাইটি নিহত হয়। পরে তারা লাশটি গোপনে একটি কাঁঠাল গাছের নিচে মাটি চাপা দিয়ে রাখে।
দিন যায়, কিন্তু ভাই আর ফেরে না।

ওদিকে বোন অপেক্ষা করতে করতে অস্থির। নির্ধারিত দিন পেরিয়ে যায়। পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। অবশেষে বহু অনুসন্ধানের পর সেই জঙ্গলের কাঁঠাল গাছের নিচে পাওয়া যায় ভাইয়ের নিথর দেহ।

ভাইয়ের লাশ জড়িয়ে বোনের বুকফাটা কান্না ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

সে শুধু বিলাপ করে বলতে থাকে—
“মোর কত দুখ…
মোর কত দুখ…”

লোককথা বলে, সেই বোনের অশেষ শোকই একসময় রূপ নেয় এক পাখির কণ্ঠে।

বৈশাখ-জৈষ্ঠ্যের দুপুরে, যখন আম-কাঁঠাল পাকে, তখন সেই পাখি আজও ডেকে ওঠে—
“মোর কত দুখ…
মোর কত দুখ…”

সিলেট অঞ্চলে অনেকে সেই পাখিকেই বলেন “কাঠল পাখি”।

আর বাংলার অন্যত্র যে পাখিকে ডাকা হয় “বউ কথা কও”, তার ডাকেও মানুষ খুঁজে পায় চিরন্তন অপেক্ষা, বিচ্ছেদ আর মায়ার সুর।

এমন লোকগাঁথাগুলো শুধু গল্প নয়— এগুলো বাংলার মানুষের হৃদয়ের ইতিহাস; যেখানে পাখির ডাকেও লুকিয়ে থাকে হারিয়ে যাওয়া মানুষের কান্না।

02/05/2026

🇧🇩 বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্গঠন: একটি নীতি প্রস্তাবনা

১. ভূমিকা
বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অপরিহার্য। সংবিধানিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতায়িত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে কাঠামোগত দুর্বলতা, আর্থিক নির্ভরতা এবং ক্ষমতার অস্পষ্ট বণ্টনের কারণে প্রত্যাশিত কার্যকারিতা অর্জিত হয়নি।

২. বিদ্যমান কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা
বর্তমানে স্থানীয় সরকার চার স্তরে পরিচালিত হচ্ছে—

জেলা পরিষদ

উপজেলা পরিষদ

পৌরসভা/সিটি করপোরেশন

ইউনিয়ন পরিষদ

মূল সীমাবদ্ধতাসমূহ:

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের অভাব

কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা

উপজেলা ও জেলা পরিষদের নিজস্ব আয় উৎসের সীমাবদ্ধতা

দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে ওভারল্যাপ ও অস্পষ্টতা

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের দ্বৈততা

৩. সাম্প্রতিক নীতিগত প্রবণতাঃ

উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য পরিদর্শন কক্ষ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এমপিদের সাংবিধানিক দায়িত্ব আইন প্রণয়ন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি করে। ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন আরও সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

৪. নীতিগত সমস্যা চিহ্নিতকরণ

বর্তমান ব্যবস্থায় প্রধান সমস্যাগুলো হলো—
স্তরাধিক্য (Overlapping tiers):
চার স্তরের কাঠামো কার্যকারিতা কমায়

দ্বৈত কর্তৃত্ব (Dual authority): জনপ্রতিনিধি বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ

দুর্বল জবাবদিহিতা কাঠামো

রাজস্ব সংগ্রহে অক্ষমতা

৫. প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামো

৫.১ তিন স্তরের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
বর্তমান চার স্তরের পরিবর্তে তিন স্তরের কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হচ্ছে—
জেলা পরিষদ

পৌরসভা/সিটি করপোরেশন

ইউনিয়ন পরিষদ

👉 উপজেলা পরিষদ স্তরটি বিলুপ্ত করে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব।

৫.২ জেলা পরিষদের ক্ষমতায়ন

জেলা পরিষদের সদস্যদের সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত করা
পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বাজেট বাস্তবায়নে প্রধান সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা
জেলা পর্যায়ে সকল উন্নয়ন কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় সমন্বয় নিশ্চিত করা

৫.৩ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মর্যাদা বৃদ্ধি
চেয়ারম্যানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা প্রদান
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয়কারী সেতু হিসেবে দায়িত্ব প্রদান

৫.৪ আর্থিক স্বায়ত্তশাসন জোরদার
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ও টেকসই রাজস্ব উৎস নির্ধারণ

স্থানীয় পর্যায়ে কর/ফি আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি

কেন্দ্রীয় অনুদানের উপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে হ্রাস

৬. প্রত্যাশিত ফলাফলঃ

উপরোক্ত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে—
স্থানীয় সরকার হবে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক

উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে

প্রশাসনিক ব্যয় ও জটিলতা কমবে

তৃণমূল পর্যায়ে সেবার মান উন্নত হবে

৭. উপসংহারঃ

বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, স্বাধীন এবং জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প নেই। তিন স্তরের একটি কার্যকর মডেল এবং ক্ষমতায়িত জেলা পরিষদ এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।
এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সুপরিকল্পিত বাস্তবায়ন এবং ধাপে ধাপে রূপান্তরের মাধ্যমে একটি কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

সময় সবসময় সরল পথে চলে না—সে কখনো থেমে থাকে,কখনো আবার নীরবে ভেতরে ভেতরে বদলে যায়।‘২৪—এটা শুধু একটি সংখ্যা নয়,এটা এক অদৃশ্...
27/04/2026

সময় সবসময় সরল পথে চলে না—
সে কখনো থেমে থাকে,
কখনো আবার নীরবে ভেতরে ভেতরে বদলে যায়।

‘২৪—
এটা শুধু একটি সংখ্যা নয়,
এটা এক অদৃশ্য অনুভবের নাম,
যেখানে অনেক কথা বলা হয়নি,
অনেক প্রশ্ন মাঝপথে থেমে গেছে,
আর অনেক কণ্ঠ চুপ করে থেকেছে ভেতরে।

নীরবতা তখন শান্তি মনে হয়,
কিন্তু তার ভেতরেই জমে থাকে
অদেখা অস্থিরতা।
যা বলা যায় না,
যা চেপে রাখতে হয়,
তা হারিয়ে যায় না—
শুধু সময়ের ভেতর জমতে থাকে।

একসময় মনে পড়ে
গালিব এর সেই ইঙ্গিত—
“আজ যে কণাটি বের হতে পারল না,
কাল সেটাই তুফান হয়ে উঠবে।”

এর মানে খুব সরল—
চাপা দেওয়া কথা হারায় না,
সে শুধু সময়ের অপেক্ষা করে।
আর একদিন—
সেই নীরবতাই কথা হয়ে ফিরে আসে,
আর বদলে দেয় অনেক কিছু,
যা আগে স্থির মনে হয়েছিল।

Address

Bonobithi R/A
Moulvibazar

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+88086152726

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এখলাসুর রহমান এহিয়া posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to এখলাসুর রহমান এহিয়া:

Share