10/07/2026
কিছু প্রশ্ন, কিছু তথ্য — জবাব জনগণই চাইবে
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আমি ব্যক্তিগত আক্রমণের উদ্দেশ্যে এই লেখা প্রকাশ করছি না। আমার উদ্দেশ্য হলো কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
আমার বক্তব্যের কোনো অংশ যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আমি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশোধন গ্রহণ করতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করতেও আমার দ্বিধা নেই।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি করে কেন্দ্রীয়/জামে মসজিদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের কার্যক্রম বিদ্যমান থাকা আবশ্যক ছিল।
আমাদের মসজিদ উক্ত শর্ত পূরণ করায় যথাযথভাবে আবেদন করা হয়। আবেদন গ্রহণের পর উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রশ্নের সূত্রপাত
প্রাথমিক তালিকা তৈরির সময় আমাদের জানানো হয়েছিল যে, আমাদের মসজিদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই ভিত্তিতে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে তালিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আপত্তি ও মতবিরোধের কথা জানতে পারি। বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়।
আমার প্রশ্ন ও কষ্টের বিষয়
পরবর্তীতে জানতে পারি, আমার মসজিদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে কিছু আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। এমনকি আমাকে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপনের কথাও শুনতে হয়েছে।
আমি দীর্ঘদিন জমিয়তের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। তাই আমার পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি বা অপপ্রচার আমার জন্য কষ্টদায়ক ছিল।
আমি আশা করেছিলাম, বিষয়টি দলীয় ও সামাজিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল—মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে ভুল বোঝাবুঝির অবসান সম্ভব।
কিন্তু যখন দেখলাম বিষয়টি ন্যায়সঙ্গত আলোচনার পরিবর্তে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও প্রভাবের মধ্যে চলে যাচ্ছে, তখন আমি হতাশ হই এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
আমার মূল প্রশ্নগুলো
১. মসজিদ নির্বাচন কোন লিখিত নীতিমালার ভিত্তিতে করা হয়েছে?
২. সরকারি শর্ত পূরণকারী মসজিদের মধ্য থেকে কারা নির্বাচিত হলেন এবং কারা বাদ পড়লেন—এর কারণ কি প্রকাশ করা হবে?
৩. যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম কি জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হবে?
৪. নির্বাচিত সব মসজিদ কি সরকারি শর্ত পূরণ করেছে?
৫. যদি কোনো মসজিদ বা ব্যক্তি পূর্বে অন্য সুবিধা পেয়ে থাকে, তাহলে একই সুবিধার ক্ষেত্রে তাদের অন্তর্ভুক্তির নীতিমালা কী ছিল?
৬. বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও পুনরায় যাচাই করা হলো না কেন?
৭. আমার মসজিদ বাদ দেওয়ার লিখিত কারণ আজ পর্যন্ত জানানো হলো না কেন?
৮. আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসা হলো না কেন?
বর্তমান পরিস্থিতি
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে আমাকে প্রকাশ্যে জবাবদিহিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। আমি আবারও স্পষ্ট করতে চাই—আমি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ চাই না।
আমি চাই তথ্যভিত্তিক আলোচনা।
যদি আমার কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন ভুল প্রমাণিত হয়, আমি তা গ্রহণ করব এবং সংশোধন করব।
কিন্তু যদি প্রশ্নগুলোর যৌক্তিক উত্তর না থাকে, তাহলে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে ভাববে।
আমার উদ্দেশ্য কারও সম্মানহানি নয়। আমার উদ্দেশ্য হলো—স্বচ্ছতা, ইনসাফ, জবাবদিহি এবং সত্য উদঘাটন।
আমি এতদিন বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যখন আমাকে নিয়ে বিচার-সালিশের কথা বলা হচ্ছে, তখন জনগণের সামনে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন মনে করছি।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মসজিদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন হলো—যদি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচন হয়ে থাকে, তাহলে তার লিখিত মানদণ্ড ও যাচাইয়ের ভিত্তি প্রকাশ করা হবে না কেন?
আমার অভিযোগ হলো, পাঁচটি মসজিদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘরানার সংশ্লিষ্টতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া দরকার।
নির্বাচিত মসজিদগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. কাপনা সাতঘর হাটি জামে মসজিদ, সলুকাবাদ
২. মুক্তিখলা মল্লিকপুর জামে মসজিদ, পলাশ
৩. দুধপুর পুলের ঘাট জামে মসজিদ, ধনপুর
৪. বসন্তপুর বাজার জামে মসজিদ
৫. বাগুয়া দক্ষিণ হাটি জামে মসজিদ
আমি জানতে চাই—এসব মসজিদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী কী যাচাই করা হয়েছে? একই শর্ত পূরণকারী অন্য মসজিদগুলো কেন বাদ পড়ল?
আমি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে পূর্বে আশা করেছিলাম যে, বিষয়টি আলোচনা ও যাচাইয়ের মাধ্যমে সংশোধন করা হবে। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে সেই সংশোধন কার্যকর হয়নি।
এই কারণেই আমি প্রশ্ন তুলেছি। কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং ন্যায়সঙ্গত ব্যাখ্যার প্রত্যাশায়।
এখন যদি আমার বক্তব্য ভুল হয়, তাহলে তথ্য-প্রমাণসহ জবাব দেওয়া হোক। আমি তা গ্রহণ করব।
আর যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনো অসঙ্গতি থাকে, তাহলে সেটিও জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
আমি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে আলোচনার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর লিখিত ব্যাখ্যা ও তথ্য উপস্থাপন করা হোক।