28/10/2025
*টঙ্গির ময়দানে সাদ অনুসারীদের নিষেধাজ্ঞার কারণে কেরানীগঞ্জে জোড় করছেন সাদ পন্থীরা*
তাবলীগ জামাতের বিতর্কিত শাখা মাওলানা সাদ কান্ধলভী অনুসারীদের বিরুদ্ধে ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ধারাবাহিক সহিংসতা ও নিরপরাধ সাথীদের হত্যার অভিযোগ ওঠার পর,
বাংলাদেশ সরকার তাদের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
বর্তমানে সাদ অনুসারীরা কেরানীগঞ্জ এলাকায় আলাদা একটি জোড় ইজতেমা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে,
যা নিয়ে উলামা সমাজ ও প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তাবলীগ জামাতের ইতিহাসে এই বিভেদের শুরু ২০১৫ সালের দিকে,
যখন ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা সাদ কান্ধলভী নিজেকে তাবলীগ জামাতের “আমীর” ঘোষণা করেন।
তার কিছু বক্তব্য উলামায়ে কেরামদের মতে কুরআন ও হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা,
ফলে বিশ্বজুড়ে তাবলীগ জামাতের মুরুব্বিগণ তার বিরোধিতা শুরু করেন।
এর পর থেকেই তাবলীগ জামাত দুই ভাগে বিভক্ত হয়
উলামা শুরা অনুসারী দল পাকিস্তান ইন্ডিয়া (বাংলাদেশ শীর্ষ মুরুব্বিগণ)
মাওলানা সাদ অনুসারী দল
২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
সেদিন নিরপরাধ তাবলীগ সাথীদের রক্ত ঝরে,
অন্তত দু’জন নিহত এবং শতাধিক আহত হন।
নিহতদের পরিবার সাদপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
এই ঘটনার পর সরকার প্রথমবারের মতো সাদপন্থীদের টঙ্গী ময়দানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং উলামা-শুরা অনুসারীদের হাতে ইজতেমার দায়িত্ব অর্পণ করে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে আবারও একই স্থানে সংঘর্ষ ঘটে।
সাদপন্থীরা টঙ্গীর ময়দানে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনায় তিনজন তাবলীগ সাথী নিহত এবং অনেকেই আহত হন।
এবার সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং
মাওলানা সাদ কান্ধলভী ও তাঁর অনুসারীদের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
সেই সঙ্গে প্রশাসন স্পষ্ট করে জানায়, তাবলীগ জামাতের বাংলাদেশি মূলধারা হবে কাকরাইল মুরুব্বিগণের নেতৃত্বে উলামা-শুরা ভিত্তিক দল।
২০২৫ সালে এসে খবর পাওয়া যাচ্ছে —
সাদ অনুসারীরা কেরানীগঞ্জ এলাকায় আলাদা “জোড় ইজতেমা” আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তারা দাবি করছে এটি “নিজামুদ্দিন মারকাজের নির্দেশে দাওয়াতি জমায়েত”,
কিন্তু উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান উভয়েই এটিকে “বিতর্কিত ও বিভাজনমূলক কার্যক্রম” হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে জানিয়েছে —
“কেরানীগঞ্জ এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো বড় জমায়েত করা যাবে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।”
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক উলামায়ে কেরামরা বলছেন
“তাবলীগ জামাত কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি উম্মতের দাওয়াতি কাজ।
শুরা ও পরামর্শের ভিত্তিতে এ কাজ চলতে হবে।
যে কোনো দল বা নেতৃত্ব যদি বিভেদ ও ফেতনা সৃষ্টি করে, তা তাবলীগের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।”
দেশজুড়ে তাবলীগের সাথীরা এখন ঐক্য ও শান্তির পক্ষে।
অনেকে বলছেন —
“আমরা ফেতনা চাই না, রক্তপাত চাই না। আমরা চাই, উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে ঐক্যবদ্ধভাবে দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যাক তাবলীগ জামাত।”
সারসংক্ষেপ
২০১৮ সালে টঙ্গীতে সাদপন্থীদের হামলায় ২ জন নিহত, বহু আহত।
২০২৪ সালেও সংঘর্ষে ৩ জন তাবলীগ সাথী নিহত ও বহু আহত হন।
সরকার উভয় ঘটনার পর সাদপন্থীদের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে নিষিদ্ধ করে।
বর্তমানে সাদ অনুসারীরা কেরানীগঞ্জে আলাদা জোড় ইজতেমা করতে চাচ্ছে।
প্রশাসন বলছে — অনুমতি ছাড়া কোনো জমায়েতের সুযোগ নেই।
সংবাদদাতা
স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
তারিখ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫
সূত্র: ধর্ম মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক নথি, কাকরাইল মার্কাজ ও স্থানীয় উলামা সাক্ষাৎকার