22/07/2026
অর্থ আইন ২০২৬: কর রেয়াত ও বিনিয়োগের নতুন নিয়মাবলি:
একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা তার মোট আয়ের ৩০% পর্যন্ত অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ বা দান করে সর্বোচ্চ কর রেয়াত সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন (যা পূর্বে করযোগ্য আয়ের ২০% পর্যন্ত ছিল)।
অর্থ আইন ২০২৬ অনুযায়ী এই কর রেয়াত হিসাবের পদ্ধতি ও শর্তাবলীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কর রেয়াত হিসাবের ৩টি শর্ত:
বর্তমানে একজন করদাতা নিবন্ধিত খাতসমূহে বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ কর রেয়াত পাবেন, তা নিচের ৩টি অংকের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম হবে:
· মোট করযোগ্য আয়ের ৩%: (কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়, হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য এইরূপ আয়, অংশীদারি ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয় এবং চূড়ান্ত করদায়] প্রযোজ্য এইরূপ আয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট আয়ের উপর হিসাবযোগ্য)।
· প্রকৃত বিনিয়োগ বা অনুদানের ১০%: অনুমোদিত খাতে মোট প্রকৃত বিনিয়োগ বা অনুদানের ১০% (যা আগে ১৫% ছিল)।
· সর্বোচ্চ নির্ধারিত সীমা: ৭,৫০,০০০ (সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা (যা আগে ছিল ১০,০০,০০০ টাকা)।
লক্ষ্যণীয় বিষয়: আগে রেয়াতের হার ১৫% থাকায় যে পরিমাণ কর সুবিধা পাওয়া যেত, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১০% রেয়াত হারের কারণে একই পরিমাণ কর সুবিধা পেতে করদাতাকে আগের চেয়ে ৫০% বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।
মেয়াদপূর্তির আগে ক্যাশ/এনক্যাশমেন্টে নতুন কড়াকড়ি: অর্থ আইন ২০২৬-এ বিনিয়োগ নগদায়নের ক্ষেত্রে একটি নতুন বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে:
মেয়াদপূর্ব নগদায়ন (Early Encashment): ডিপিএস (DPS), সঞ্চয়পত্র, সরকারি বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ারের ক্ষেত্রে কোনো করদাতা যদি নির্ধারিত মেয়াদের আগে বা নির্দিষ্ট ধারণকালের (Holding Period) পূর্বে বিনিয়োগ নগদায়ন করেন, তবে উক্ত নগদায়নের সংশ্লিষ্ট অর্থবৎসরে ইতিপূর্বে নেওয়া রেয়াতের অংশ অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।