26/05/2026
কুরবানীর জরুরি মাসয়ালা
১. কার উপর ওয়াজিব? জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ (৭.৫ ভরি স্বর্ণ / ৫২.৫ ভরি রুপা বা সমমূল্যের নগদ টাকা) থাকলে কুরবানী ওয়াজিব।
২. নিসাবের মেয়াদ: মাত্র ৩ দিন (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ্জ)।
৩. উত্তম দিন: ১০ তারিখে করা সবচেয়ে উত্তম।
৪. নাবালক: নাবালকের সম্পদ থাকলেও কুরবানী ওয়াজিব নয়।
৫. অসুস্থ মস্তিষ্ক: বালেগ কিন্তু মানসিকভাবে সুস্থ নয়, এমন ব্যক্তির উপর ওয়াজিব নয়।
৬. নাবালকের পক্ষে: অভিভাবকের পক্ষ থেকে দেওয়া মুস্তাহাব।
৭. দরিদ্রের কুরবানী: ওয়াজিব নয়, তবে কুরবানীর নিয়তে পশু কিনলে তা জবাই করা ওয়াজিব।
৮. সময় পার হলে: কেউ সময়মতো দিতে না পারলে একটি ছাগলের মূল্য সদকা করতে হবে। পশু কেনা থাকলে সেটিই সদকা করতে হবে।
৯. শুরুর সময়: ঈদের নামাজের আগে কুরবানী জায়েজ নেই। তবে জরুরি কারণে নামাজ না হলে সূর্য ঢলার পর করা যাবে।
১০. রাতে কুরবানী: ১০ ও ১১ তারিখ রাতে জায়েজ, ১২ তারিখ রাতে জায়েজ নেই।
১১. জায়েজ পশু: গরু, উট, মহিষ, দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া।
১২. লিঙ্গ: পুরুষ বা মহিলা (নর/মাদী) উভয় দিয়ে হবে।
১৩. বয়স: উট ৫ বছর; গরু/মহিষ ২ বছর; ভেড়া/ছাগল/দুম্বা ১ বছর। (ভেড়া/দুম্বা দেখতে ১ বছরের মতো হলে ৬ মাস হলেও চলে)।
১৪. শরীক: গরু/মহিষ/উটে সর্বোচ্চ ৭ জন। ছাগল/ভেড়াতে ১ জন।
১৫. বন্টন: ভাগে কম-বেশি হলে কারো কুরবানী হবে না (পাল্লা দিয়ে মাপতে হবে)।
১৬. শুধু গোশত খাওয়ার নিয়ত: কারো যদি শুধু খাওয়ার নিয়ত থাকে, তবে কারো কুরবানী হবে না।
১৭. আকিকা: বড় পশুতে আকিকা দেওয়া জায়েজ।
১৮. হারাম টাকা: কারো টাকা সম্পূর্ণ হারাম হলে কারো কুরবানী হবে না।
১৯. একা কিনে শরীক নেওয়া: ধনী ব্যক্তি চাইলে পারবেন, তবে দরিদ্র ব্যক্তি একা করার নিয়তে কিনলে পরে শরীক নিতে পারবেন না।
২০. উত্তম পশু: রিষ্টপুষ্ট ও সুন্দর পশু সুন্নত।
২১. তিন পায়ে চলা: তিন পায়ে ভর করে চললে (এক পা অকেজো হলে) হবে না।
২২. রুগ্ন পশু: অতি দুর্বল পশু দিয়ে হবে না।
২৩. দাঁতহীন: দাঁত না থাকলে বা ঘাস খেতে না পারলে হবে না।
২৪. শিং: জন্মগত না থাকলে হবে, কিন্তু ভেঙে মগজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে হবে না।
২৫. লেজ/কান: অর্ধেক বা তার বেশি কাটা থাকলে হবে না।
২৬. অন্ধ: অন্ধ পশু দিয়ে কুরবানী হবে না।
২৭. হারিয়ে গেলে: ধনী হলে আবার কিনতে হবে। দরিদ্রের জন্য পাওয়া গেলে দুটিই দেওয়া ওয়াজিব।
২৮. গর্ভবতী পশু: কুরবানী জায়েজ।
২৯. পেটের বাচ্চা: জীবিত পাওয়া গেলে সেটিও জবাই করতে হবে।
৩০. প্রসব অবস্থা: জবাই করা জায়েজ তবে মাকরূহ।
৩১. কেনার পর খুঁত: ধনীর জন্য নতুন কিনতে হবে, দরিদ্রের জন্য সেটিই জায়েজ।
৩২. ভুল বয়স: বিশ্বাস করে কেনার পর বয়স কম বের হলে কুরবানী হয়ে যাবে, তবে বিক্রেতা গুনাহগার হবে।
৩৩. স্থান: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গায় জবাই করা উত্তম।
৩৪. কে জবাই করবে? নিজে করা উত্তম।
৩৫. বন্ধ্যা পশু: কুরবানী হবে।
৩৬. একাধিক ব্যক্তির ছুরি চালানো: সবাইকে 'বিসমিল্লাহ' বলতে হবে।
৩৭. উপকৃত হওয়া: পশুর দ্বারা কাজ করানো বা হালচাষ নাজায়েজ।
৩৮. হালচাষ করলে: সমপরিমাণ টাকা সদকা করতে হবে।
৩৯. পশুর দুধ: পান করা যাবে না।
৪০. দুধ দোহন করলে: সদকা করতে হবে।
৪১. শরীক মারা গেলে: ওয়ারিশদের অনুমতি নিয়ে কুরবানী করা যাবে।
৪২. বাচ্চা দিলে: বাচ্চা জীবিত সদকা করতে হবে।
৪৩. মৃতের পক্ষ থেকে: ওসিয়ত না করলে গোশত খাওয়া যাবে।
৪৪. কতদিন রাখা যাবে: যতদিন ইচ্ছে রাখা যায়।
৪৫. অনুমান করে ভাগ: নাজায়েজ, ওজন করতে হবে।
৪৬. গরিবের অংশ: না দিলে কুরবানী হবে তবে কৃপণতা হবে।
৪৭. গোশত বিক্রি: নাজায়েজ।
৪৮. কসাইয়ের পারিশ্রমিক: গোশত দিয়ে দেওয়া যাবে না, নগদ টাকা দিতে হবে।
৪৯. অস্ত্র: ধারালো হতে হবে।
৫০. চামড়া ছাড়ানো: পশু নিস্তেজ হওয়ার আগে নয়।
৫১. সামনে জবাই: এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা নিষেধ।
৫২. অমুসলিমকে গোশত: দেওয়া যাবে।
৫৩. মারা গেলে বা ছিনতাই হলে: ধনী হলে আবার কিনতে হবে।
৫৪. মুসাফির: কুরবানী ওয়াজিব নয়।
৫৫. অনুমতি: অন্যের পক্ষ থেকে দিলে অনুমতি লাগবে।
৫৬. গোশত খাওয়া: মুস্তাহাব।
৫৭. ঋণ নিয়ে কুরবানী: জায়েজ (সুদ ছাড়া)।
৫৮. হাজী: মুসাফির থাকলে ওয়াজিব নয়।
৫৯. পাগল পশু: ঘাস না খেলে না।
৬০. নবীর (সা.) পক্ষ থেকে: উত্তম আমল।
৬১. খাসি পশু: জায়েজ ও উত্তম।
৬২. বিদেশে অবস্থান: দেশে আপনার নামে কুরবানী দিলেও হবে।
৬৩. চামড়া: নিজে ব্যবহার করা যায়, বিক্রি করলে টাকা সদকা করা ওয়াজিব।
৬৪. জবাইকারীর হাদিয়া: পারিশ্রমিকের বাইরে হাদিয়া দেওয়া উত্তম।
৬৫. হাঁস-মুরগি: কুরবানীর নিয়তে জবাই করা যাবে না।
৬৬. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে: সওয়াব পৌঁছাতে কুরবানী করা জায়েজ।
আল্লাহ আমাদের সবার কুরবানী কবুল করুন। আমিন।