26/07/2026
📌 আয়কর রিটার্নে সবচেয়ে বেশি করা ১০টি ভুল
প্রতি বছর রিটার্ন প্রস্তুত করতে গিয়ে একটি বিষয় বারবার চোখে পড়ে—বেশিরভাগ ভুলই ইচ্ছাকৃত নয়, অসাবধানতা বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে হয়।
এই ছোট ছোট ভুলই পরে ব্যাখ্যা দিতে হয়, নোটিশ আসে, কিংবা অপ্রয়োজনীয় ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিচে সবচেয়ে সাধারণ ১০টি ভুল তুলে ধরা হলো—
✅ ১. সম্পদের তথ্য অসম্পূর্ণ দেওয়া
শহর এলাকায় ফ্ল্যাট, জমি বা দোকান থাকলেও অনেকেই তা উল্লেখ করতে ভুলে যান।
✅ ২. Tax Rebate-এর হিসাব ভুল করা
যতটুকু বিনিয়োগ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি রিবেট দাবি করা ঠিক নয়।
উদাহরণ:
যদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগই না থাকে, তাহলে সেই খাতে রিবেট দেখানো যাবে না।
✅ ৩. আয় ও ব্যয়ের হিসাবের মিল না থাকা
মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা, কিন্তু বার্ষিক ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ লাখ টাকা—এমন অসঙ্গতি সহজেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।
✅ ৪. হাতে নগদ অর্থ (Cash in Hand) অস্বাভাবিক দেখানো কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কয়েক কোটি টাকা নগদ দেখানো বাস্তবতার সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।
✅ ৫. FDR, DPS, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক সঞ্চয় উল্লেখ না করাঅনেকেই ভাবেন, এগুলো আলাদা বিষয়। বাস্তবে এগুলোও সম্পদের অংশ।
✅ ৬. উৎসে কর্তিত কর (TDS) বা কর পরিশোধের তথ্য ভুল দেওয়া
কর কাটা হয়েছে, কিন্তু প্রমাণ নেই—এমন হলে সেই সমন্বয় পাওয়া কঠিন হতে পারে।
✅ ৭. ঋণ, ধার বা উপহারের তথ্য বাদ দেওয়া
বৈধভাবে পাওয়া অর্থের উৎস উল্লেখ না করলে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে।
✅ ৮. আগের বছরের নীট সম্পদের তথ্য ভুল বহন করা এক বছরের ছোট ভুল পরের কয়েক বছর পর্যন্ত চলতে পারে।
✅ ৯. পারিবারিক ব্যয় বাস্তবসম্মতভাবে না দেখানো
বিশেষ করে বিবাহিত করদাতাদের ক্ষেত্রে ব্যয় শূন্য বা অস্বাভাবিক কম দেখানো স্বাভাবিক মনে নাও হতে পারে।
✅ ১০. শুধু হিসাব মিলিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়া
রিটার্ন শুধু অঙ্কের হিসাব নয়; এটি আইন অনুযায়ী তথ্য উপস্থাপনের একটি নথি।
একটি ছোট পরামর্শ:
রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে অন্তত একবার আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং কর পরিশোধের তথ্য মিলিয়ে দেখুন। অনেক সময় মাত্র ১০ মিনিটের একটি রিভিউ ভবিষ্যতের অনেক অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়িয়ে দিতে পারে।
💬 আপনার অভিজ্ঞতায় রিটার্ন প্রস্তুতের সময় সবচেয়ে বেশি কোন ভুলটি মানুষ করে বলে মনে হয়? মন্তব্যে জানাতে পারেন।