04/04/2014
ই-মেইল আর মোবাইলেও করা যাবে আইপিও’র আবেদন
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পদ্ধতি সংস্কারের ফলে আগের চেয়ে সহজে করা যাবে আইপিও আবেদন। এমন কি ই-মেইল আর মোবাইল ফোনেও আবেদন করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। অবশ্য বিষয়টি নির্ভর করবে গ্রাহক ও ব্রোকারহাউজের পারস্পরিক বোঝাপড়ার উপর। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বর্তমান পদ্ধতিতে আইপিও’র আবেদন জমা দিতে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয় বিনিয়োগকারীদের। অল্প কয়েকটি ব্যাংকের নির্বাচিত শাখায় থাকে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ লাইন। অন্যদিকে এসব আবেদনপত্র প্রক্রিয়াজাত করতেও বেশ সময় লাগে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পদ্ধতিটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। চলতি মাসের শেষভাগে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হতে পারে। আর জুন থেকে এটি বাধ্যতামূলক হবে সব কোম্পানির আইপিও’র ক্ষেত্রে।
জানা গেছে, বর্তমান পদ্ধতিতে আবেদনপত্রে অনেকগুলো তথ্য দিতে হয়। এতে সই করতে হয় আবেদনকারীকে। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে আবেদনপত্রে তথ্য দিতে হবে মাত্র চারটি। ব্যাক্তির নাম, বিও নাম্বার, ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার এবং শেয়ার সংখ্যা। আর সেগুলোও আবেদনপত্রে বারবার লিখতে হবে না। বিনিয়োগকারী তার ডিপি বা ব্রোকারকে আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করলে তিনি গ্রাহকের হয়ে ওই আবেদন জমা দেবেন। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে গ্রাহকের আবেদনপত্র। তাতে থাকবে ডিজিটাল সিগনেচার (স্বাক্ষর)।
সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন পদ্ধতির মত একই উপায়ে গ্রাহক আইপিওতে আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন। বর্তমানে একজন গ্রাহক স্বশরীরে ব্রোকারহাউজে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে শেয়ার কেনা বা বেচার আদেশ দিতে পারেন। আবার ফোন বা ই-মেইলেও শেয়ার কেনা-বেচার আদেশ দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ব্রোকার ও গ্রাহকের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ও বোঝাপড়া থাকতে হয়।
একই পদ্ধতিতে আইপিও’র ক্ষেত্রেও আদেশ দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে ব্রোকারের কাছে সংরক্ষিত নির্ধারিত ফরমে আগাম সই করে রাখতে হবে। ফোন বা ই-মেইলে আদেশের পর সই করা আগের ফরমটির বাকী অংশ পূরণে করে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবে ব্রোকারহাউজ। অবশ্যই ব্রোকারহাউজে সংরক্ষিত বিনিয়োগকারীর হিসাবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ থাকতে হবে।