29/09/2025
ইকারিয়া দ্বীপের রহস্য!
“ঘড়ি থেমে নেই—তবু এখানকার মানুষ সময়কে হার মানায়; ৯০–১০০ বছর যেন স্বাভাবিক বয়স!”
গ্রীসের ছোট্ট ইকারিয়া দ্বীপ—মাত্র ২৫৪ বর্গকিলোমিটারের সবুজ, পাহাড়ি এক স্বর্গ। বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই দ্বীপের মানুষদের দীর্ঘায়ুর জন্য। অনেকের মতে, এর পেছনে কাজ করে দ্বীপের নির্মল পরিবেশ, আবহাওয়া, আর স্বাভাবিক ছন্দে বাঁচার সহজ জীবনধারা।
এই দ্বীপে সবচেয়ে আলোচিত নাম স্তামাতিস মোরাইতিস। ১৯৫১ সালে ইকারিয়া ছেড়ে তিনি পরিবারসহ আমেরিকার ফ্লোরিডায় যান। ১৯৭৬ সালে ৬০ বছর বয়সে ফুসফুসের ক্যান্সার ধরা পড়ে—চিকিৎসকেরা বলেন, হাতে মাত্র নয় মাস। শেষদিনগুলো শৈশবের বন্ধুদের সঙ্গে কাটাতে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ফিরে আসেন ইকারিয়ায়। অবিশ্বাস্যভাবে, কয়েক মাসের মধ্যেই শরীর ফিরতে শুরু করে আগের ছন্দে—নিজে হাঁটা-চলা, জমিতে কাজ, আর দিনকে দিন সুস্থতা। পরবর্তীতে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা যায় ক্যান্সার ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসা ছাড়াই তিনি বেঁচেছিলেন ৯০ বছর পর্যন্ত।
ইকারিয়ার বৃদ্ধদের আলাদা করে চেনা যায় তাদের প্রাণশক্তিতে। শত বছরেও তারা লাঠির ভরসা কমই নেন; পাহাড়ি সিঁড়ি ভেঙে একাই গির্জায় ওঠেন। জীবন এখানে চলে ঘড়ির নির্দেশে নয়—ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দোকান খোলেন, নিমন্ত্রণে সকাল ১০টা বা সন্ধ্যা ৬টায় অতিথি উপস্থিত হন—কেউ তাড়া দেন না, কেউ তাড়াহুড়ো করেন না। টাকার চিন্তা, প্রতিযোগিতার দৌড়—সবকিছু থেকে দূরে থেকে তারা স্বভাবতই থাকেন চাপমুক্ত।
খাদ্যাভ্যাসও ভীষণ সরল—প্রচুর শাকসবজি ও ফল, ফাস্ট ফুড নেই বললেই চলে; মাছ-মাংস সীমিত। পেশা মূলত মৎস্যধরা, চাষাবাদ, পশুপালন—যার ফলে সারাদিনের কাজই হয়ে ওঠে স্বাভাবিক ব্যায়াম। রাতে ঘুমের আগে এক পেয়ালা হার্বাল চা, স্থানীয় মদও অল্পে সীমাবদ্ধ। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত চলাফেরা, আর প্রকৃতির সান্নিধ্য—এই ত্রয়ীতে গড়ে ওঠে সুস্থতার বৃত্ত।
২০০০ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার ও লেখক ড্যান বিউটনার ‘দ্য ব্লু জোন্স সলিউশন’ বইয়ে ইকারিয়াকে ‘ব্লু জোন’ হিসেবে তুলে ধরেন—সেসব স্থান, যেখানে মানুষ গড়ে বেশি দিন বাঁচে এবং কম অসুখে ভোগে। কেন এই দ্বীপে শতায়ু বেশি, ক্যান্সার ও হৃদরোগ তুলনামূলক কম—তা নিয়ে হয়েছে বহু গবেষণা। কিন্তু ইকারিয়াবাসীদের সহজ, ধীর, প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন যেন সব প্রশ্নের এক অপ্রকাশিত উত্তর হয়ে থেকেই যায়।
শেষকথা: হয়তো রহস্য খুব জটিল নয়—স্বাস্থ্যের বড় গোপনটা লুকোনো আছে ছোট ছোট অভ্যাসে, ধীর জীবনে, আর প্রকৃতির কাছে ফেরা—যেমনটি করে ইকারিয়া।
দর্শক এই দ্বীপের ব্যাপারে আগে জানতেন? আপনার মতামত জানান কমেন্টে
(C) Inspiration Media