03/02/2026
আসসালামু আলাইকুম,
বর্তমানে প্রায় দেখা যাচ্ছে যে, এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পন্য তৈরি করে থাকে।
এইরকম পরিস্থিতি হতে পারে নিম্নোক্ত কারণে, যথা: ১। নিজেস্ব উৎপাদন ক্ষমতা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কম থাকা; ২। তাহার উক্ত পন্য তৈরিতে যে মেশিনারিজ প্রয়োজন তাহার ত্রুটির কারণ, ৩। যে সকল কাচামাল প্রয়োজন তাহার স্বল্পতার কারণ ইত্যাদি।
আইনের ব্যাখ্যা: এরুপ ক্ষেত্রে নিবন্ধিত উৎপাদক কর্তৃক চুক্তির ভিত্তিতে পন্য উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য দেশের বলবৎ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর বিধি বিধান অনুসরণপূর্বক সংঘটিত হতে হবে (সাধারণ আদেশ নং ১৪/মূসক/২০২০, তারিখ: ২৪ নভেম্বর, ২০২০খ্রি:) এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ২(খখ) মোতাবেক চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক অর্থ পণ্যের স্বত্বাধিকারী কর্তৃক সরবরাহকৃত উপকরণ অথবা নিজস্ব উপকরণ ব্যবহার করিয়া পনের বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিতে পন্য উৎপাদনকারী।
উপকরণ ও উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহের মাধ্যমঃ বিধি ৪০(১)(ঘ) মোতাবেক নিবন্ধিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে চুক্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাহাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট পন্যের উপকরন ও উৎপাদিত পন্য ফরম মূসক-৬.৪ এর মাধ্যমে স্থানান্তরিত হবে।
মূল্য ঘোষণা সংক্রান্ত বিধান: মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৩২(৫) ও মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ২১ অনুযায়ী প্রত্যেক নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত ব্যক্তিকে পন্য উৎপাদন ও সরবরাহের পূর্বে ফরম মূসক-৪.৩ এ বিভাগীয় কর্মকর্তার নিকট উপকরণ উৎপাদ সহগ দাখিল করিতে হবে।
এক্ষেত্রে, অনেক সময় দেখা যায়, চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের নিমিত্ত্বে স্বত্বাধিকারী কর্তৃক কিছু উপকরণ সরবরাহ করা হয় এবং কিছু উপকরণ চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক তার নিজস্ব কাঁচামাল ব্যবহার করে থাকে। সেক্ষেত্রেও চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক পন্য সরবরাহের বিপরীতে বিভাগীয় কর্মকর্তার নিকট উপকরণ উৎপাদ সহগ দাখিল করিবেন।
রেয়াত সংক্রান্ত বিধানঃ চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক, পণ্যের স্বত্বাধিকারী কর্তৃক মূসক-৬.৪ এর মাধ্যমে ইস্যুকৃত কাচামাল ব্যতিত, তিনি যদি অন্য কোন কাচামাল, সেবা বা প্যাকিং সামগ্রী ব্যবহার করেন যাহা মূসক-৬.৩ মাধ্যমে ক্রয়কৃত সেক্ষেত্রে আইনের ধারা-৪৬ পরিপালন পূর্বক রেয়াত গ্রহণ করিতে পারিবেন। অনুরুপভাবে যখন চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক কর্তৃক বিল বা সার্ভিস চার্জ গ্রহণের জন্য মূসক-৬.৩ ইস্যু করিবেন এবং উক্ত উৎপাদিত পণ্যের বিপরীতে স্বত্বাধিকারী কর্তৃক পরিশোধিত মূসক তিনি উপকরণ কর হিসেবে ধারা-৪৬ পরিপালন পূর্বক রেয়াত গ্রহণ করিতে পারিবেন।
রেকর্ডপত্র ও হিসাব সংরক্ষণঃ ধারা-১০৭ মোতাবেক হিসাবপত্র সংরক্ষণ করিতে হবে। যেমন, মূসক-৬.৪ এর মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদকের নিকট প্রেরিত উপকরণ সরবরাহ করা হলে স্বত্বাধিকারীকে তাহার জন্য মূসক-৬.১ রেজিষ্ট্রারে রেকর্ড করিতে হবে প্রয়োজনে আলাদা পুস্তক ব্যবহার করা যাবে যা বাণিজ্যিক দলিলাদি হিসেবে গন্য হবে। অনুরুপভাবে, চুক্তিভিত্তিক উৎপাদককেও স্বত্বাধিকারী কর্তৃক মূসক-৬.৪ এর মাধ্যমে প্রেরিত উপকরণ তাহার ক্রয় হিসাব পুস্তক মূসক-৬.১ এ আলাদা শিরোনাম বিশিষ্ট স্থানে রেকর্ড করিতে হবে এবং উক্ত উপকরণ ব্যবহার করে যে পরিমাণ পন্য উৎপাদন করা হবে তাহা মূসক-৬.৪ এর মাধ্যমে স্বত্বাধিকারীকে প্রেরণ করিবে এবং উক্ত রেকর্ড হতে বিয়োগ করিয়া দিতে হবে।
পন সংগ্রহ: যখন চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক পন্যের স্বত্বাধিকারীর নিকট পন সংগ্রহের জন্য বিল উপস্থাপন করিবেন তখন তিনি প্রতিটি সরবরাহের বিপরীতে বা ধারা-৩৩ অনুসরন পূর্বক মূসক-৬.৩ ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেলে পন গ্রহণ করিবেন।এক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদক তাহার মূসক-৬.২ তে সরবরাহের তথ্য লিপিবদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট মাসের দাখিলপত্রে প্রদর্শন করিবেন।
মোঃ খোরশেদ আলম