20/06/2022
বিষয়: "বাবা দিবসের" এক্স-রে (X-Ray) রিপোর্ট।
# বাবা দিবসের এক্স-রে রিপোর্ট:
এ রকম যে, পশ্চিমা যে দেশগুলো "বাবা" দিবসের জন্ম দিয়েছে বা জমজমাটভাবে এ দিবস পালন করছে খোলাসা কথা হলো তাদের দেশের প্রায় ৫০% লোকের বাবা অজ্ঞাত বা অপরিচিত বা তাদের বাবার সামাজিক স্বীকৃতি নেই।
# বৃদ্ধাশ্রম যাদের ঠিকানা:
আবার যাদের স্বীকৃতি রয়েছে সে সব বাবা মায়ের অনেকের ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রমে। কাজেই বছরে ১দিন বাবা/মা দিবস উপলক্ষ্যে তাদেরকে সঙ্গে দেখা করতে ১তোড়া ফুল নিয়ে গেলেই হলো। এ জন্যই তাদের ১টি বাবা/ মা দিবসের বড্ড প্রয়োজন।
# বাবার পরিচয় নেই:
এমন ২০১৬ সালের ১টি জরিপ লক্ষ্য করি:
ফ্রান্স ৫৯.৭%, বুলগেরিয়া ৫৮.৬%, সুইডেন ৫৪.৯%, পর্তুগাল ৫২.৮%, নেদারল্যান্ড ৫০.৪%, বেলজিয়াম ৪৯%, বৃটেন ৪৭.৯%, হাঙ্গেরী ৪৬.৭%, স্পেন ৪৫.৯%, ফিনল্যান্ড ৪৪.৯%, আয়ারল্যান্ড ৩৬.৬%, জার্মানী ৩৫.৫%, ইতালী ২৮%, পোল্যান্ড ২৫%, ক্রোয়েশিয়া ১৮.৯%, গ্রীস ৯.৪% ইত্যাদি।
আমেরিকা আর ব্রিটিশ এর অবস্থা বোধ হয় এ রকমই হবে। এসব জাতির কাছে থেকে আমাদের সভ্যতা ভিক্ষা করে চলতে দেখলে লজ্জা পেতে হয়!
# বাবা দিবস কি?
বাবাকে কেন্দ্র করে বা বাবার উদ্দেশ্যে নিবেদিত অথবা বাবাকে শ্রদ্ধা জানানোর বিশেষ ১টি দিনকে বলা যায় "বাবা দিবস"।
# বাবা দিবস কবে পালিত হয়?
প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার "বাবা" দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সে হিসেবে গতকাল ১৯.০৬.২০২২ তারিখ ছিল বাবা দিবস।
সে কারণে অনেকে বাবা কে নিয়ে ফেস বুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
# বাবা দিবসের জন্ম কাহিনী?
১৯০৭ সাল থেকে "মা দিবস" পালিত হচ্ছে।
বাবা দিবস যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম চালু হয়েছে এবং এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি গল্প আছে:
সবচে' গ্রহণযোগ্য গল্পটি হলো, ওয়াশিংটনের "সোনোরা লুইস স্মার্ট" নামের ১জন ভদ্র মহিলা এ দিবসের জন্ম দেন।
"সোনোরা লুইস স্মার্ট" এর মা ৬নং সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে তার মা মারা যায়। ফলে তার বাবা একাই বাবার ভালোবাসা আর মায়ের স্নেহ দিয়ে তার গোটা পরিবারের সবাইকে বড় করেন।
সম্ভবত: ১৯০৯ সালে "সোনোরা" গির্জায় গিয়ে মা দিবসের কথা জানতে পারেন। তখন থেকে তার আইডিয়া জন্মালো, "বাবার" জন্যেও একটি বিশেষ দিবস থাকা দরকার।
স্থানীয় কিছু "ধর্মযাজক" তার এ আইডিয়াটির সাথে সহমত পোষণ করে।
সে হিসেবে ১৯১০ সালের ১৯শে জুন ১মবার বাবা দিবসটি পালন করা হয়, যা ছিল অনানুষ্ঠানিক।
এরপর ১৯৬৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট "লিন্ডন বি. জনসন" সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রতি বছর "জুন মাসের ৩য় রোববার" "বাবা দিবস" হিসাবে পালন করা হবে।
এর ঠিক ০৬ বছর এর মাথায় প্রেসিডেন্ট "রিচার্ড নিক্সন" বাবা দিবসের আইনী স্বীকৃতি প্রদান করেন।
# ইসলামের বিধান:
শুধু জুন মাসের ৩য় রোববার নয় ইসলামে ৩৬৫ দিন বাবা, মা দিবস। ২৪ ঘণ্টা তাঁদের খেদমত করতে হবে।
মাতা পিতার হক্ক সংক্রান্ত আল কুরআনের আয়াত:
১. আল্লাহ তাআলা নিজের হক্বের সাথে সাথেই পিতা-মাতার হক্বের বিধান জারি করেছেন।
وَ قَضٰی رَبُّکَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِیَّاہُ وَ بِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ؕ اِمَّا یَبۡلُغَنَّ عِنۡدَکَ الۡکِبَرَ اَحَدُہُمَاۤ اَوۡ کِلٰہُمَا فَلَا تَقُلۡ لَّہُمَاۤ اُفٍّ وَّ لَا تَنۡہَرۡہُمَا وَ قُلۡ لَّہُمَا قَوۡلًا کَرِیۡمًا ﴿۲۳﴾
তোমার রাব্ব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত করবেনা এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে বিরক্তিসূচক কিছু বলনা এবং তাদেরকে ভৎর্সনা করনা; তাদের সাথে কথা বল সম্মানসূচক নম্রভাবে।(বনী ইসরাইল ২৩)।
وَ اخۡفِضۡ لَہُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحۡمَۃِ وَ قُلۡ رَّبِّ ارۡحَمۡہُمَا کَمَا رَبَّیٰنِیۡ صَغِیۡرًا ﴿ؕ۲۴﴾
অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থাক এবং বলঃ হে আমার রাব্ব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে লালন পালন করেছিলেন। (বণী ইসরাইল ২৪)।
সূরা আন নিসার ৩৬ নং আয়াত:
وَ اعۡبُدُوا اللّٰہَ وَ لَا تُشۡرِکُوۡا بِہٖ شَیۡئًا وَّ بِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا
তোমরা আল্লাহরই ইবাদাত কর এবং তাঁর সাথে কোন বিষয়ে অংশী স্থাপন করোনা এবং মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার কর।
সূরা আল আনকাবুত এর ৮ নং আয়াত:
وَ وَصَّیۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَیۡہِ حُسۡنًا ؕ وَ اِنۡ جَاہَدٰکَ لِتُشۡرِکَ بِیۡ مَا لَیۡسَ لَکَ بِہٖ عِلۡمٌ فَلَا تُطِعۡہُمَا ؕ اِلَیَّ مَرۡجِعُکُمۡ فَاُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۸﴾
আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে; কিন্তু তারা যদি তোমার উপর বল প্রয়োগ করে, আমার সাথে এমন কিছু শরীক করতে যে সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই তাহলে তুমি তাদেরকে মান্য করনা। আমারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব যা তোমরা করতে।
সূরা লুকমান এর ১৪, ১৫ নং আয়াত:
وَ وَصَّیۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَیۡہِ ۚ حَمَلَتۡہُ اُمُّہٗ وَہۡنًا عَلٰی وَہۡنٍ وَّ فِصٰلُہٗ فِیۡ عَامَیۡنِ اَنِ اشۡکُرۡ لِیۡ وَ لِوَالِدَیۡکَ ؕ اِلَیَّ الۡمَصِیۡرُ ﴿۱۴﴾
আমিতো মানুষকে তার মাতাপিতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। মা সন্তানকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার প্রতি ও তোমার মাতাপিতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। প্রত্যাবর্তনতো আমারই নিকট।
وَ اِنۡ جَاہَدٰکَ عَلٰۤی اَنۡ تُشۡرِکَ بِیۡ مَا لَیۡسَ لَکَ بِہٖ عِلۡمٌ ۙ فَلَا تُطِعۡہُمَا وَ صَاحِبۡہُمَا فِی الدُّنۡیَا مَعۡرُوۡفًا ۫ وَّ اتَّبِعۡ سَبِیۡلَ مَنۡ اَنَابَ اِلَیَّ ۚ ثُمَّ اِلَیَّ مَرۡجِعُکُمۡ فَاُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۱۵﴾
তোমার মাতা-পিতা যদি তোমাকে পীড়াপীড়ি করে আমার সাথে শরীক করতে যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তাহলে তুমি তাদের কথা মানবেনা। তবে পৃথিবীতে তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে এবং যে বিশুদ্ধ চিত্তে আমার অভিমুখি হয়েছে তার পথ অবলম্বন কর, অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট এবং তোমরা যা করতে সে বিষয়ে আমি তোমাদেরকে অবহিত করব।
উপরের আয়াত গুলোতে ৮টি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
১. পিতা-মাতার সাথে সদা সদ্ব্যবহার করতে হবে। কোনভাবেই দূর্ব্যবহার করা যাবে না।
২. তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না। কষ্ট দিয়োনা।
৩. তাদেরকে ধমক দিও না।
৪. তাদের সাথে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বলো। তাদের সাথে নম্র আচরণ করো। তাদের সামনে কখনো কঠোর হয়োনা।
৫. তাদের সামনে ভালোবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও।
৬. তাঁরা মারা গেলে দুআ করো এভাবে ,বলো, হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।
৭. সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রেখে তাঁদের সাথে কথা বলতে হবে।
৮. তাঁরা যদি অন্যায়, আর শরীয়ত বিরোধী নির্দেশ দেন তাহলে তা মানা যাবেনা।
# পিতামাতার সাথে সদাচরণ সর্বোত্তম আমল।
قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ " الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا ". قَالَ ثُمَّ أَىُّ قَالَ " ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ ". قَالَ ثُمَّ أَىّ قَالَ " الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ". قَالَ حَدَّثَنِي بِهِنَّ وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي.
আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, আমি নবী (সা:) কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ্র নিকট কোন্ কাজ সব থেকে অধিক পছন্দনীয়? তিনি বললেনঃসময় মত সালাত আদায় করা। (‘আবদুল্লাহ) জিজ্ঞেস করলেন: তারপর কোন্টি? তিনি বললেনঃপিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা। ‘আবদুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন: তারপর কোন্টি? তিনি বললেনঃআল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করা। ‘আবদুল্লাহ বললেনঃনবী (সা:) এগুলো সম্পর্কে আমাকে বলেছেন। আমি তাঁকে আরও অধিক প্রশ্ন করলে, তিনি আমাকে আরও জানাতেন।(বুখারী ৫৯৭০, আপ্র ৫৫৩৭, ইফা ৫৪৩২)।
# শিরকের পরে পিতা মাতার অবাধ্যতা হলো সবচে বড় কবীরা গুনাহ:
َ " إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْكُمْ عُقُوقَ الأُمَّهَاتِ، وَمَنْعَ وَهَاتِ، وَوَأْدَ الْبَنَاتِ، وَكَرِهَ لَكُمْ قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةَ الْمَالِ ".
সা’দ ইবনু হাফ্স (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, নবী (সা:) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মা-বাপের নাফরমানী করা, প্রাপকের প্রাপ্য আটক রাখা, যে জিনিস গ্রহণ করা তোমাদের জন্য ঠিক নয় তা তলব করা এবং কন্যা সন্তানকে জীবিত ক্ববর দেয়া। আর তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেছেন গল্প-গুজব করা, অতিরিক্ত প্রশ্ন করা ও সম্পদ অপচয় করা।(বুখারী ৫৯৭৫ আপ্র ৫৫৪২ ইফা ৫৪৩৭)।
# পিতা মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করলে জিহাদের সোয়াব:
عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُجَاهِدُ. قَالَ " لَكَ أَبَوَانِ ". قَالَ نَعَمْ. قَالَ " فَفِيهِمَا فَجَاهِدْ ".
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সা:) কে জিজ্ঞেস করল: আমি কি জিহাদে যাব? তিনি বললেনঃ তোমার কি পিতা-মাতা আছে? সে বললোঃ হাঁ। তিনি বললেনঃতা হলে তাদের (সেবা করার মাধ্যমে) জিহাদ কর।(বুখারী ৫৯৭২ আপ্র ৫৫৩৯ ইফা ৫৪৩৪)।
# পিতা মাতা বিধর্মী হলেও ভালো ব্যবহার করতে হবে, স্বাভাবিক সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে:
أَخْبَرَتْنِي أَسْمَاءُ ابْنَةُ أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَتْ أَتَتْنِي أُمِّي رَاغِبَةً فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم آصِلُهَا قَالَ " نَعَمْ ". قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهَا {لاَ يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ}
আবূ বাক্র (রাঃ) -এর কন্যা আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, নবী (সা:) -এর যুগে আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এলেন। আমি নবী (সা:) এর নিকট জিজ্ঞেস করলামঃ তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবো কি না? তিনি বললেন, হাঁ।
(বুখারী ২৬২০,৩১৮৩, ৫৯৭৮,৭৯, মুসলিম ২২১৪,১৫ আবু দাঊদ ১৬৬৮)।
# পিতা মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করলে তার দুআ অবশ্য কবূল যোগ্য:
ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَرَجَ ثَلاَثَةٌ يَمْشُونَ فَأَصَابَهُمُ الْمَطَرُ، فَدَخَلُوا فِي غَارٍ فِي جَبَلٍ، فَانْحَطَّتْ عَلَيْهِمْ صَخْرَةٌ. قَالَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ادْعُوا اللَّهَ بِأَفْضَلِ عَمَلٍ عَمِلْتُمُوهُ. فَقَالَ أَحَدُهُمُ اللَّهُمَّ، إِنِّي كَانَ لِي أَبَوَانِ شَيْخَانِ كَبِيرَانِ، فَكُنْتُ أَخْرُجُ فَأَرْعَى، ثُمَّ أَجِيءُ فَأَحْلُبُ، فَأَجِيءُ بِالْحِلاَبِ فَآتِي بِهِ أَبَوَىَّ فَيَشْرَبَانِ، ثُمَّ أَسْقِي الصِّبْيَةَ وَأَهْلِي وَامْرَأَتِي، فَاحْتَبَسْتُ لَيْلَةً. فَجِئْتُ فَإِذَا هُمَا نَائِمَانِ ـ قَالَ ـ فَكَرِهْتُ أَنْ أُوقِظَهُمَا، وَالصِّبِيْةُ يَتَضَاغَوْنَ عِنْدَ رِجْلَىَّ، فَلَمْ يَزَلْ ذَلِكَ دَأْبِي وَدَأْبَهُمَا، حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ عَنَّا فُرْجَةً نَرَى مِنْهَا السَّمَاءَ. قَالَ فَفُرِجَ عَنْهُمْ. وَقَالَ الآخَرُ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي كُنْتُ أُحِبُّ امْرَأَةً مِنْ بَنَاتِ عَمِّي كَأَشَدِّ مَا يُحِبُّ الرَّجُلُ النِّسَاءَ، فَقَالَتْ لاَ تَنَالُ ذَلِكَ مِنْهَا حَتَّى تُعْطِيَهَا مِائَةَ دِينَارٍ. فَسَعَيْتُ فِيهَا حَتَّى جَمَعْتُهَا، فَلَمَّا قَعَدْتُ بَيْنَ رِجْلَيْهَا قَالَتِ اتَّقِ اللَّهَ، وَلاَ تَفُضَّ الْخَاتَمَ إِلاَّ بِحَقِّهِ. فَقُمْتُ وَتَرَكْتُهَا، فَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ عَنَّا فُرْجَةً، قَالَ فَفَرَجَ عَنْهُمُ الثُّلُثَيْنِ. وَقَالَ الآخَرُ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي اسْتَأْجَرْتُ أَجِيرًا بِفَرَقٍ مِنْ ذُرَةٍ فَأَعْطَيْتُهُ، وَأَبَى ذَاكَ أَنْ يَأْخُذَ، فَعَمَدْتُ إِلَى ذَلِكَ الْفَرَقِ، فَزَرَعْتُهُ حَتَّى اشْتَرَيْتُ مِنْهُ بَقَرًا وَرَاعِيَهَا، ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَعْطِنِي حَقِّي. فَقُلْتُ انْطَلِقْ إِلَى تِلْكَ الْبَقَرِ وَرَاعِيهَا، فَإِنَّهَا لَكَ. فَقَالَ أَتَسْتَهْزِئُ بِي. قَالَ فَقُلْتُ مَا أَسْتَهْزِئُ بِكَ وَلَكِنَّهَا لَكَ. اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنِّي فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَافْرُجْ عَنَّا. فَكُشِفَ عَنْهُمْ ".
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) সূত্রে নবী (সা:) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি হেঁটে চলছিল। এমন সময় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে তারা এক পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করে। হঠাৎ একটি পাথর গড়িয়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দেয়। তাদের একজন আরেকজনকে বলল; তোমরা যে সব আমল করেছ, তার মধ্যে উত্তম আমলের ওয়াসীলা করে আল্লাহ্র কাছে দু’আ কর। তাদের যে একজন বলল আল্লাহ্! আমার অতিবৃদ্ধ পিতামাতা ছিলেন, আমি (প্রত্যহ সকালে) মেষ চরাতে বের হতাম। তারপর ফিরে এসে দুধ দোহন করতাম এবং এ দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার নিকট উপস্থিত হতাম ও তারা তা পান করতেন। তারপরে আমি শিশুদের, পরিজনদের এবং স্ত্রীকে পান করতে দিতাম। একরাত্রে আমি আটকা পরে যাই। তারপর আমি যখন এলাম তখন তারা দুজনে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সে বলল, আমি তাদের জাগানো পছন্দ করলাম না। আর তখন শিশুরা আমার পায়ের কাছে (ক্ষুধায়) চীৎকার করছিল। এ অবস্থায়ই আমার এবং পিতা-মাতার ফজর হয়ে গেল। ইয়া আল্লাহ্! তুমি যদি জান তা আমি শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্ট লাভের আশায় করেছিলাম তা হলে তুমি আমাদের গুহার মুখ এতটুকু ফাঁক করে দাও, যাতে আমরা আকাশ দেখতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন একটু ফাঁকা হয়ে গেল। আরেকজন বলল, ইয়া আল্লাহ্! তুমি জান যে, আমি আমার এক চাচাতো বোনকে এত ভালবাসতাম, যা একজন পুরুষ নারীকে ভালবেসে থাকে। সে বলল, তুমি আমার হতে সে মনস্কামনা সিদ্ধ করতে পারবে না, যতক্ষণ আমাকে একশত দীনার না দেবে। আমি চেষ্টা করে তা সংগ্রহ করি। তারপর আমি যখন তার পদদ্বয়ের মাঝে উপবেশন করি, তখন সে বলে “আল্লাহ্কে ভয় কর”। বৈধ অধিকার ছাড়া মাহ্রকৃত বস্তুর সীল ভাঙবে না। এতে আমি তাকে ছেড়ে উঠে পড়ি। (হে আল্লাহ্) তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের হতে আরো একটু ফাঁক করে দাও। তখন তাদের হতে (গুহার মুখের) দুই-তৃতীয়াংশ ফাঁক হয়ে গেল। অপরজন বলল, হে আল্লাহ্! তুমি জান যে, এক ফারাক (পরিমাণ) শস্য দানার বিনিময়ে আমি একজন মজুর রেখেছিলাম। আমি তাকে তা দিতে গেলে সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারপর আমি সে এর ফারাক শস্য দানা দিয়ে চাষ করে ফসল উৎপন্ন করি এবং তা দিয়ে গরু ক্রয় করি এবং রাখাল নিযুক্ত করি। কিছুকাল পরে সে মজুর এসে বলল, হে আল্লাহ্র বান্দা! আমাকে আমার পাওনা দাও। আমি বললাম এই গরুগুলো ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, তুমি কি আমার সাথে উপহাস করছ? আমি বললাম, আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না বরং এসব তোমার। হে আল্লাহ্! তুমি যদি জান আমি তা তোমারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করেছি, তবে আমাদের হতে (গুহার মুখ) উন্মুক্ত করে দাও। তখন তাদের হতে গুহার মুখ উন্মুক্ত হয়ে গেল। (বুখারী ২২১৫)।
# নফল সালাত পড়ার সময় পিতা মাতা ডাকলে নফল সালাত ছেড়ে দিয়ে তাঁদের ডাকে সাড়া দিতে হবে। (নফল পড়ে কাযা করতে হবে, ইমাম বুখারী সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন) قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَادَتِ امْرَأَةٌ ابْنَهَا، وَهْوَ فِي صَوْمَعَةٍ قَالَتْ يَا جُرَيْجُ. قَالَ اللَّهُمَّ أُمِّي وَصَلاَتِي. قَالَتْ يَا جُرَيْجُ. قَالَ اللَّهُمَّ أُمِّي وَصَلاَتِي. قَالَتْ يَا جُرَيْجُ. قَالَ اللَّهُمَّ أُمِّي وَصَلاَتِي. قَالَتِ اللَّهُمَّ لاَ يَمُوتُ جُرَيْجٌ حَتَّى يَنْظُرَ فِي وَجْهِ الْمَيَامِيسِ. وَكَانَتْ تَأْوِي إِلَى صَوْمَعَتِهِ رَاعِيَةٌ تَرْعَى الْغَنَمَ فَوَلَدَتْ فَقِيلَ لَهَا مِمَّنْ هَذَا الْوَلَدُ قَالَتْ مِنْ جُرَيْجٍ نَزَلَ مِنْ صَوْمَعَتِهِ. قَالَ جُرَيْجٌ أَيْنَ هَذِهِ الَّتِي تَزْعُمُ أَنَّ وَلَدَهَا لِي قَالَ يَا بَابُوسُ مَنْ أَبُوكَ قَالَ رَاعِي الْغَنَمِ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেছেনঃ এক মহিলা তার ছেলেকে ডাকল। তখন তার ছেলে গীর্জায় ছিল। বলল, হে জুরায়জ! ছেলে মনে মনে বলল, হে আল্লাহ্! (এক দিকে) আমার মা (এর ডাক) আর (অন্য দিকে) আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরাইজ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ্! আমার মা আর আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরায়জ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ্! আমার মা ও আমার সালাত! মা বললেন, হে আল্লাহ্! পতিতাদের সামনে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত যেন জুরায়জের মৃত্যু না হয়। এক রাখালিনী যে বক্রী চরাতো, সে জুরায়জের গীর্জায় আসা যাওয়া করত। সে একটি সন্তান প্রসব করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হল- এ সন্তান কার ঔরসজাত? সে জবাব দিল, জুরায়জের ঔরসের। জুরায়জ তাঁর গীর্জা হতে নেমে এসে জিজ্ঞেস করলো, কোথায় সে মেয়েটি, যে বলে যে, তার সন্তানটি আমার? (সন্তানসহ মেয়েটিকে উপস্থিত করা হলে) জুরায়জ বলেন, হে বাবূস! তোমার পিতা কে? সে বলল, বক্রীর অমুক রাখাল। (বুখারী ১২০৬)।
# পিতা মাতা জান্নাত, তাঁরাই জাহান্নাম:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ الْوَالِدَيْنِ عَلَى وَلَدِهِمَا قَالَ " هُمَا جَنَّتُكَ وَنَارُكَ " .
আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! সন্তানের উপর মাতা-পিতার কী অধিকার আছে? তিনি বলেনঃ তারা তোমার জান্নাত এবং তোমার জাহান্নাম। (ইবনে মাজা ৩৬৬২ মিশকাত ৪৯৪১, আর রাদ্দু আলাল বালীক ১২২, দঈফ আল-জামি‘ ৬০৯৮)।
তাহক্বীক: দূর্বল হাদীস।
# অবাধ্য সন্তান জান্নাতে যাবে না:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَاقٌّ وَلاَ قَمَّارٌ وَلاَمَنَّانٌ وَلاَ مُدْمِنُ خَمْرٍ.
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রাসূল (সা:) বলেছেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়া ও লটারীতে অংশগ্রহণকারী, খোঁটাদানকারী এবং সর্বদা মদপানকারী জান্নাতে যাবে না’ (দারেমী, মিশকাত হা/৩৬৫৩; বাংলা মিশকাত ৭ম খণ্ড, হা/৩৪৮৬ ‘শাস্তি’ অধ্যায়)।
ঊপদেশ, হাদিস নং ৭৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
# উপরের হাদীস গুলো থেকে পিতামাতার ১৪টি হক্ক প্রমাণিত:
পিতা - মাতার হক মোটামুটি ১৪ টি।
ক. ৭টি জীবিত অবস্থায়
খ. আর ৭ টি মৃত্যুর পর।
# জীবিত অবস্থায় ৭ টি হক:
১.সর্বোচ্চ আজমত অর্থাৎ পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। আল্লাহ তাআলা এবং রাসূল (সা:) এর পরে সবচে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন, বাবা, আর মা।
২. মনে-প্রাণে ভালোবাসা। সন্তান সন্ততি এর চেয়ে অধিক ভালোবাসতে হবে তাঁদেরকে।
৩. সর্বদা তাদেরকে মেনে চলা। শুধু পাপ এবং শিরকের আদেশ মানা যাবেনা।
৪. তাদের খেদমত করা।
৫. তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করা।
৬.তাদেরকে সবসময় সুখে শান্তিতে রাখার চেষ্টা করা।
৭.নিয়মিত তাদের সাথে সাক্ষাত ও দেখাশোনা করা।
# মৃত্যুর পর ৭ টি হক।
১. তাদের মাগফেরাত এর জন্য দুআ করা।
২. দান সদকা এর মাধ্যমে সোয়াব পৌঁছানো।
৩. তাদের সাথী সঙ্গী ও আত্মীয় স্বজনদের সম্মান করা।
৪. সাথী-সঙ্গী ও আত্মীয় স্বজনদের সাহায্য করা।
৫. ঋণ পরিশোধ ও আমানত আদায় করা।
৬.শরীয়ত সম্মত ওসিয়ত পূর্ণ করা।
৭. সাধ্যমত তাদের কবর জিয়ারত করা।
©️