03/05/2026
বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর সব ফাইল অডিটে পড়ে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে রিটার্নগুলো অডিটের জন্য নির্বাচন করে। আয়কর অডিটে পড়ার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. আয়ের তথ্যে অসামঞ্জস্য
ব্যাংক লেনদেনের সাথে গরমিল:আপনার রিটার্নে দেখানো বার্ষিক আয়ের তুলনায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি হলে অডিটে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
পূর্ববর্তী বছরের সাথে বড় পার্থক্য: আগের বছরের তুলনায় হুট করে আয় অনেক কমে গেলে বা কোনো কারণ ছাড়াই ব্যয় অনেক বেড়ে গেলে রাজস্ব বিভাগ তা খতিয়ে দেখতে পারে।
২. রিটার্নে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য
উৎস সংলগ্নে ভুল: টিডিএস (TDS) বা উৎসে কর কর্তনের যে প্রমাণপত্র জমা দিয়েছেন, তার সাথে যদি চালানের তথ্যের মিল না থাকে।
পরিবার ও জীবনযাত্রার ব্যয় (IT-10BB): জীবনযাত্রার ব্যয় যদি আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় (যেমন: আয় কম কিন্তু খরচ অনেক বেশি), তবে ফাইলটি অডিটে পড়তে পারে।
৩. সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
হুট করে স্থাবর সম্পদ (জমি, ফ্ল্যাট) বা দামী গাড়ি কিনলে এবং সেটির অর্থের উৎস রিটার্নে পরিষ্কার না থাকলে তা অডিটভুক্ত হতে পারে।
বিদেশে সম্পদ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলে এবং তা যথাযথভাবে প্রকাশ না করলে।
৪. অনিয়মিত রিটার্ন দাখিল
যারা নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন না বা সময়মতো রিটার্ন জমা দেন না, তাদের ফাইলগুলো অনেক সময় বিশেষ নজরদারিতে থাকে।
৫. কর রেয়াত ও ব্যয়ের দাবি
অস্বাভাবিক হারে কর রেয়াত (Tax Rebate) দাবি করলে বা এমন খাতে বিনিয়োগ দেখালে যা আইনত অনুমোদিত নয়।
ব্যবসায়িক রিটার্নের ক্ষেত্রে যদি নিট মুনাফা অন্যান্য সমজাতীয় ব্যবসার তুলনায় অনেক কম দেখানো হয়।
৬. দৈবচয়ন বা র্যান্ডম সিলেকশন
সব তথ্য সঠিক থাকলেও NBR-এর কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে দৈবচয়ন বা 'র্যান্ডম সিলেকশন' পদ্ধতিতে যেকোনো ফাইল অডিটের জন্য নির্বাচিত হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ ভাগ্য বা সিস্টেমের উপর নির্ভর করে।
অডিট এড়ানোর উপায়
সব সময় **সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য** প্রদান করা।
আয়ের সাথে ব্যয়ের **সামঞ্জস্য** বজায় রাখা।
সকল প্রয়োজনীয় **ডকুমেন্ট বা প্রমাণপত্র** (যেমন: ব্যাংক স্টেটমেন্ট, স্যালারি সার্টিফিকেট, খরচের রসিদ) রিটার্নের সাথে যুক্ত করা।
অপ্রদর্শিত আয় থাকলে তা যথাযথ নিয়মে প্রদর্শন করা।