Project Management Consultants-প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক

  • Home
  • Bangladesh
  • Mirpur
  • Project Management Consultants-প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক

Project Management Consultants-প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক It is an emerging project design and management consultancy house.

We provide services like project design (DPP, TAPP), project management, project monitoring and evaluation, impact evaluation, capacity building, proposal and report (PCR, ICR) writing.

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকবে। তবে চলমান নির্মাণ কাজ কম...
08/07/2026

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকবে। তবে চলমান নির্মাণ কাজ কমপক্ষে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে তা শেষ করা যাবে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ এবং সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধায় গাড়ি কেনাও স্থগিত করা হয়েছে। 'সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে' সরকার এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন খাতে সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দের অর্থ খরচ করা যাবে না। তবে ১০ বছরের অধিক পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল থাকবে। এছাড়া নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে যানবাহন কেনা যাবে।

একটি নতুন শর্ত যুক্ত করে পরিপত্রে বলা হয়েছে, 'অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তা কাজে ব্যবহারের জন্য মোটরযান বাদে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনকৃত বা নতুন কেনা জিপ বা কার অবশ্যই ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) হতে হবে।' এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধাও আপাতত বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে সকল ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া যাবে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা দেশ থেকে দেওয়া স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নের জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে।

প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রদত্ত মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে। পিএসআই (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন) বা এফএটি (ফ্যাক্টরি অ্যাক্সেপটেন্স টেস্ট)-এর ক্ষেত্রে কেবল জটিল প্রকৃতির পণ্য এবং যেখানে পিএসআই বাধ্যতামূলক, সেখানে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করা হবে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকবে। তবে চলমান নির্মাণ কাজ কমপক্ষে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে তা শেষ করা যাবে।

পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে থোক বরাদ্দের কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে 'বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা' খাতে সংরক্ষিত বরাদ্দ অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায় যানবাহন কেনা বন্ধ থাকলেও এই পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলযোগ্য হবে।

পরিপত্রে সকল ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা 'ভ্যালু ফর মানি' নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণ বন্ধ থাকবে। তবে চলমান নির্মা.....

সেপ্টেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ডিসেম্বরে শেষ হবে পুরো প্রকল্পনারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্...
07/07/2026

সেপ্টেম্বরে খুলছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ডিসেম্বরে শেষ হবে পুরো প্রকল্প

নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন ৬ লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল উড়াল অংশ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। আর চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ের পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। পরে বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয় এবং ব্যয় বৃদ্ধি করে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে সংশোধিত সময়সীমাও অতিক্রম করলেও ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রকল্প শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্পটি চালু হলে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন ঢাকার মূল শহরে প্রবেশ না করেই এই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে সরাসরি গন্তব্যে যেতে পারবে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমবে।

প্রকল্পের আওতায় ভূমি সমান্তরাল (অ্যাটগ্রেড) ৭ কিলোমিটার সড়ক দুই লেনে উন্নয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি পঞ্চবটি থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত ২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার মূল উড়াল অংশসহ ৬টি র‌্যাম্প নিয়ে মোট ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ পঞ্চবটি থেকে কাশিপুর পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কের ওপর দিয়ে এবং ২ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার অংশ কাশিপুর থেকে চর সৈয়দপুর পর্যন্ত নিচু ভূমির ওপর নির্মিত হচ্ছে।

যানজট কমাতে পঞ্চবটি মোড় থেকে ফতুল্লা ও চাষাঢ়ার দিকে ৩১০ মিটার করে ৬ লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে ৪৪৩ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে।

চর সৈয়দপুরে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সংযোগস্থলে একটি গোলচত্বর নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে নিচে ও ওপরে দুটি করে মোট চারটি টোল প্লাজা এবং ছয়টি ওজন পরিমাপক স্টেশন থাকবে। নিচের সড়ক দিয়ে যান চলাচল উন্মুক্ত থাকলেও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারে টোল দিতে হবে।

এই সড়কের দুই পাশে বিসিক শিল্পনগরীসহ প্রায় এক হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রায় চার লাখ শ্রমিক কর্মরত। এছাড়া মুক্তারপুর এলাকায় রয়েছে একাধিক সিমেন্ট কারখানা ও হিমাগার। ফলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করে। নতুন এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটির বাণিজ্যিক প্রভাব নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিকেএমইএর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন যে কোনো দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তাই শুধুমাত্র এই প্রকল্পের কারণে ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে এমনটি তিনি মনে করেন না।

প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক বলেন, “ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এলিভেটেড অংশের কাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে বিটুমিনের কাজ চলছে। আশা করছি এক মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। এরপর সংযোগের কাজ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় দুই মাস লাগবে।”

তিনি আরও বলেন, “সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এলিভেটেড অংশটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হবে।”

নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন ৬ লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল উড়া...

দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে বিশ্বব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ২০২৫ সালের ১২ জুন অনুমোদিত এই প্রকল্পের আ...
01/07/2026

দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে বিশ্বব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প

২০২৫ সালের ১২ জুন অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় সরকারের পাঁচটি প্রধান প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন করা হবে।

ডিজিটাল রূপান্তর, সুশাসন এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের এক ফ্যাক্টশিট অনুযায়ী, 'স্ট্রেন্দেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি' শীর্ষক এই প্রকল্পটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ, কেনাকাটা, ডেটা সিস্টেম এবং নিরীক্ষা বা অডিট ব্যবস্থার সংস্কারে সহায়তা করবে।

২০২৫ সালের ১২ জুন অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় সরকারের পাঁচটি প্রধান প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয় (ওসিএজি)।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী সরকারি প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।

২০২৫ সালের ১২ জুন অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় সরকারের পাঁচটি প্রধান প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন করা হবে।

29/06/2026

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে প্রস্তাবিত পানগাঁও থেকে জালকুড়ি বাসস্ট....

সরকারি প্রকল্পে বেসরকারি খাত থেকেও পরিচালক নেওয়া যাবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বেসরকারি খাত থেকে পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখ...
29/06/2026

সরকারি প্রকল্পে বেসরকারি খাত থেকেও পরিচালক নেওয়া যাবে

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বেসরকারি খাত থেকে পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখতে চায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে একটি পরিপত্রের খসড়া করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ‘নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো নাগরিককে’ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা যাবে।

সরকারি প্রকল্পে সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচালক নিয়োগ করা হয়। পদটি তাঁদের জন্য আকর্ষণীয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতা, ধীরগতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি খাত থেকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ করার সুযোগ রেখে তৈরি পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদন পেলে জারি হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের উদ্যোগটি ভালো। এতে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রকল্প পরিচালকের ঘাটতি দূর করার সুযোগ তৈরি হবে। এক ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব দিতে হবে না। কিন্তু সমস্যা হলো, এই সুযোগের অপব্যবহার হলে দলীয়করণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে আমলারা সরকারি এ উদ্যোগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন এবং বেসরকারি ব্যক্তি প্রকল্প পরিচালক হলে অসহযোগিতার মুখে পড়তে পারেন। বেসরকারি খাতের কেউ সরকারি কাজের প্রক্রিয়া বুঝবেন কি না, সেটাও প্রশ্ন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে উদ্যোগটি ভালো। তবে বেসরকারি খাত থেকে কাউকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিলে তাঁর দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা স্পষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগটির মাধ্যমে কেমন ফলাফল আসে, তা দেখা যেতে পারে।

সরকারি প্রকল্পে সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচালক নিয়োগ করা হয়। পদটি তাঁদের জন্য আকর্ষণীয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতা, ধীরগতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতি, ধীরগতি

সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় এখন ১ হাজার ১৫০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে অনুমোদনের জন্য ১ হাজার ২৭৭টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে বাস্তবায়নের ওপর দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের সেবাপ্রাপ্তি নির্ভর করে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেনতেনভাবে প্রকল্প নেওয়া এবং তা বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণের বহু অভিযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনীতি নিয়ে করা দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন কমিটির শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে এডিপির মাধ্যমে খরচ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি মনে করে, এই টাকার ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ অপচয় ও লুটপাট হয়েছে।

শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়; বাংলাদেশে যথাসময়ে এবং নির্ধারিত ব্যয়ে প্রকল্প শেষ করা বিরল ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে অবকাঠামো প্রকল্প যথাসময়ে নির্ধারিত ব্যয়ে শেষ হলে সেটা বিশেষ খবর হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন ২০১৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হওয়া ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। তা নিয়ে তখন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।

উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে উদ্যোগটি ভালো। তবে বেসরকারি খাত থেকে কাউকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিলে তাঁর দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা স্পষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগটির মাধ্যমে কেমন ফলাফল আসে, তা দেখা যেতে পারে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গত মে মাসে সরকারের চলমান ১ হাজার ৩৫২টি প্রকল্প নিয়ে একটি গবেষণা করে। এতে উঠে আসে, প্রায় ৫৫ শতাংশ (৭৩৭টি) প্রকল্পের মেয়াদ অন্তত একবার বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে দুবার বাড়ানো হয়েছে ২৩৪টি প্রকল্পের মেয়াদ। তিনবার বাড়ানো হয়েছে ৪৩টির। চারবার ছয়টির এবং পাঁচবার দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

১ হাজার ৩৫২টির মধ্যে ৬১৫টি প্রকল্প এখনো সংশোধন হয়নি। তবে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সিপিডি বলেছে, এগুলোর বেশির ভাগের মেয়াদও বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদের সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খরচও বাড়ে।

সিডিপির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান প্রকল্প নিয়ে গবেষণাটি করেছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারি খাত থেকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা যেতে পারে সেই সব বিশেষ প্রকল্পে, যেখানে বিশেষ জ্ঞানের দরকার হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিশেষ জ্ঞান আছে কি না, সেটাও দেখা জরুরি। তিনি বাড়তি কী করবেন, প্রকল্প দক্ষতার সঙ্গে এবং যথাসময়ে শেষ করার দিকে তাঁর বিশেষ আগ্রহ থাকবে কি না, সেটাও দেখার বিষয়।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি হোক, বেসরকারি হোক—প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

১ হাজার ৩৫২টির মধ্যে ৬১৫টি প্রকল্প এখনো সংশোধন হয়নি। তবে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সিপিডি বলেছে, এগুলোর বেশির ভাগের মেয়াদও বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদের সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খরচও বাড়ে।

খসড়া পরিপত্রে কী আছে

মনে করা হয়, প্রকল্পে ধীরগতি ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে বড় কারণগুলোর একটি হলো পরিচালকের অদক্ষতা ও সততার অভাব। এখন দুইভাবে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হয়। এক. বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদার ভিত্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকে। দুই. সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

কারা পরিচালক হতে পারবেন, কারা পারবেন না, পরিচালকদের যোগ্যতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখন নীতিমালা নেই। খসড়া পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, ক্রয় কার্যক্রমে দক্ষ, অডিট বা নিরীক্ষা বিষয়ে অভিজ্ঞ, হিসাব ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যেকোনো সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে।

লিয়েনে (একজন সরকারি চাকরিজীবী নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িকভাবে অন্য সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ) থাকা কর্মকর্তাকেও পিডি নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক প্রকল্প পরিচালক পদে আবেদন করতে পারবেন।

নির্ধারিত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা থাকলে সরকার তাঁকে চুক্তিভিত্তিক প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেবে। তবে দ্বৈত নাগরিক হলে তিনি আবেদন করতে পারবেন না।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হবে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। এ জন্য ১০ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। কমিটির সভাপতি হবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব।

নতুন প্রকল্পে পরিচালক নিয়োগে প্রথমে বাস্তবায়নকারী সংস্থা জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরখাস্ত আহ্বান করবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সব শর্ত অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম অভিজ্ঞতা, প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, সরকারি কেনাকাটাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়ে উল্লেখ থাকবে।
কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন পরিকল্পনা বিভাগের একজন প্রতিনিধি, পরিকল্পনা কমিশনের একজন প্রতিনিধি, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একজন প্রতিনিধি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিনিধি, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রধান, পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পরিকল্পনা অনুবিভাগের একজন প্রতিনিধি।

নতুন প্রকল্পে পরিচালক নিয়োগে প্রথমে বাস্তবায়নকারী সংস্থা জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরখাস্ত আহ্বান করবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সব শর্ত অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম অভিজ্ঞতা, প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, সরকারি কেনাকাটাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়ে উল্লেখ থাকবে।

আবেদন জমা পড়ার পর ১০ সদস্যের কমিটি তা যাচাই–বাছাই করে সাক্ষাৎকার নিয়ে তিনজন প্রকল্প পরিচালকের নাম সুপারিশ করবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এ তিনজন থেকে একজন প্রকল্প পরিচালক চূড়ান্ত করবেন।

অবশ্য উপযুক্ত কাউকে পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পরিচালকের জন্য চাহিদাপত্র পাঠাবে। সে অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেবে।

খসড়া পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের বেতনভাতা ও সম্মানীর একটি দাপ্তরিক প্রাক্কলন থাকবে। ৫০ কোটি টাকার নিচে কোনো প্রকল্পের একজন পরিচালকের মাসিক বেতন হবে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ৫০ কোটি টাকার ওপরে কোনো প্রকল্প হলে পরিচালকের মাসিক বেতন হবে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। তিনি নিজের আয়কর নিজেই দেবেন।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, কমিটির সুপারিশ ছাড়া এবং পদাধিকারবলে কোনো কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। একজন কর্মকর্তাকে একটি প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া যাবে, একাধিক নয়। যেকোনো প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদনের পর এক মাসের মধ্যে পরিচালক নিয়োগ করতে হবে।

তিন মাস পরপর প্রকল্প পরিচালকের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে এবং কার্যক্রম সন্তোষজনক না হলে তাঁকে অপসারণ করতে পারবে সরকার।

খসড়া পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের বেতনভাতা ও সম্মানীর একটি দাপ্তরিক প্রাক্কলন থাকবে। ৫০ কোটি টাকার নিচে কোনো প্রকল্পের একজন পরিচালকের মাসিক বেতন হবে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ৫০ কোটি টাকার ওপরে কোনো প্রকল্প হলে পরিচালকের মাসিক বেতন হবে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। তিনি নিজের আয়কর নিজেই দেবেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, নতুন এ পরিপত্রের ওপর একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। পরিপত্রটি জারি হলে অতীতে এ–সংক্রান্ত জারি করা সব নীতিমালা ও পরিপত্র বাতিল হয়ে যাবে।

প্রকল্প পরিচালক কেন আকর্ষণীয় পদ
বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োগ, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অনেকাংশে থাকে প্রকল্প পরিচালকের কাছে। কর্মকর্তাদের সামনে নিজ প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে। ভালোভাবে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে কর্মকর্তার সুনাম বাড়ে। অন্যদিকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ভাতাও পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জনপ্রশাসনে কিছু কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা প্রকল্পে যেতে আগ্রহী নন। আবার অনেক কর্মকর্তা যেতে ব্যাপকভাবে আগ্রহী থাকেন। সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। প্রকল্প পরিচালক নিজে যেমন দামি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে নিজের পরিবারের সদস্যদেরও প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালকেরা পদে থাকা এবং সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখার জন্য ইচ্ছে করেই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব করেন।

প্রশ্ন হলো, সরকারি কর্মকর্তারা কি বেসরকারি কাউকে প্রকল্প পরিচালক করার বিষয়টি মেনে নেবেন? এ বিষয়ে অন্তত চারজন আমলার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি বিষয় সামনে এনেছেন।

যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকই বেশি। বিভিন্ন দেশে এর চর্চা আছে। তবে নিয়োগ হতে হবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। যেন বেছে বেছে নিজেদের লোক নিয়োগ না হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান
প্রথমত, বেসরকারি ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী অথবা প্রভাবশালীরা নিজেদের পছন্দের এবং দলীয় কাউকে নিয়োগের চেষ্টা করবেন। দ্বিতীয়ত, প্রকল্পে অনিয়ম করলে একজন সরকারি চাকরিজীবীকে জবাবদিহির মধ্যে আনা যায়। তাঁর অবসর সুবিধা আটকে যায়। বেসরকারির ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থাকবে না। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় বেসরকারি খাতের কেউ প্রকল্প পরিচালক হলে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পাবেন কি না, সে সন্দেহ রয়েছে।

এর পাল্টা যুক্তিও রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, দুর্নীতিবাজেরা অবসর সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ পেতে পারেন প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে। অবসর সুবিধা আটকে যাওয়ার ভয়ে দুর্নীতি করবেন না, এ যুক্তি টেকে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।

যোগ্য লোক নিয়োগ করা, দলীয় লোক নিয়োগ না করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা—এসব নির্ভর করে সরকারের সদিচ্ছার ওপর।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকই বেশি। বিভিন্ন দেশে এর চর্চা আছে। তবে নিয়োগ হতে হবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। যেন বেছে বেছে নিজেদের লোক নিয়োগ না হয়।

সাধারণত সরকারি কর্মকর্তারা পরিচালক হন। ‘যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো নাগরিককে’ প্রকল্প পরিচালক করার উদ্যোগ।

৩০ শতাংশের কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্প বাতিলের নির্দেশউন্নয়ন ব্যয়ে অপচয় কমাতে ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়াতে ধীরগতির ...
28/06/2026

৩০ শতাংশের কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্প বাতিলের নির্দেশ

উন্নয়ন ব্যয়ে অপচয় কমাতে ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়াতে ধীরগতির প্রকল্পগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে যেগুলো আর কার্যকর নয়, সেগুলো বাতিল করতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ড্যাশবোর্ডভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা, যোগ্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে গত ১৪ জুন সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এসব নির্দেশনা জারি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

অর্থনীতিবিদরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ধীরগতির ও অপচয়মূলক প্রকল্প ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, মন্ত্রণালয়গুলো নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করলে ও ভবিষ্যতে প্রকল্প অনুমোদনের আগে বাস্তবায়নের পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত না করলে এই সংস্কারের সুফল মিলবে না।

গত তিন অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে খারাপ হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার নেমে আসে ৬৭ দশমিক ৮৫ শতাংশে। ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে এডিপি বাস্তবায়নের গড় হার ৭৯ শতাংশ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলো এখনও প্রয়োজনীয় ও কার্যকর কি না, তা মূল্যায়ন করতে পারবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে তারা প্রকল্প পুনর্গঠন, পরিধি সংশোধন কিংবা পুরোপুরি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

এ ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ‘গ্রিন বুক’-এ অন্তর্ভুক্ত নতুন প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন দ্রুত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি সরকারের নতুন এডিপি আগামী মাস থেকে, অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে কার্যকর হবে।

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন করেছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি।

এই কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট বরাদ্দসহ প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ব্লক বরাদ্দের আওতায় নতুন আরও প্রায় ১ হাজার ২০০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর বিলম্ব, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিয়মের কারণ চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসবের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্যাশবোর্ডভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালকদের নিয়োগ দিতে হবে শুধু পেশাগত যোগ্যতা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, উদ্যোগটি ইতিবাচক। তবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে না পারা প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত অবশ্যই কঠোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমি আশা করছি, সিদ্ধান্তগুলো কস্ট-বেনিফিট অ্যানালিইসিসের (ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ) ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

তার ভাষায়, ধরুন, একটি প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০০ টাকা। এর মধ্যে ৩০ টাকা ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে। এখন সরকারকে দেখতে হবে, প্রকল্পটির সম্ভাব্য সুফল অবশিষ্ট ৭০ টাকার ব্যয়ের চেয়ে বেশি কি না। তারপরই পরবর্তী অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য সুফল যদি অবশিষ্ট ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রকল্পটি এডিপিতে রাখা যৌক্তিক। অন্যথায় সেটি বাতিল করা উচিত। সেই বিবেচনায় এডিপি ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া দরকার ছিল।

তবে এই সংস্কার বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, আসল প্রশ্ন হলো, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে কি না, আর হলেও তা সঠিকভাবে হবে কি না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। একটি প্রকল্প যত দিন টিকে থাকে, তত দিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করে।

তিনি আরও বলেন, এডিপিতে দ্রুত নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করলে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তার মতে, এডিপি বাস্তবায়নের দুর্বল হার ও দীর্ঘদিনের অপচয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, একনেকের অনুমোদনের সময় অনেক প্রকল্পই বাস্তবায়নের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে না।

জাহিদ হোসেন বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রায়ই তাড়াহুড়ো করে করা হয়। বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে নকশার ত্রুটি ধরা পড়ে, কাজ ও ক্রয় পরিকল্পনায়ও নানা দুর্বলতা দেখা যায়। ফলে অনুমোদনের পরও প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু করতে তিন থেকে চার বছর লেগে যায়।

তার মতে, বাস্তবায়নের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই নতুন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া উচিত।

গতকাল শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, এডিপি বাস্তবায়নের হার হতাশাজনক এবং সরকার এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, মানুষকে প্রভাবিত করা বা উন্নয়নের বাহ্যিক চিত্র তুলে ধরার জন্য সরকার কোনো মেগা প্রকল্প নিতে চায় না।

'ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি' আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে অনুমোদিত সব মেগা প্রকল্প একসঙ্গে বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের অপচয় ও নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সেসব প্রকল্প এখন মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী যৌক্তিকভাবে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ধীরগতির ও অপচয়মূলক প্রকল্প ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া উচি.....

আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ইকো...
25/06/2026

আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (EARN) প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের আওতায় আট বিভাগে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২৪ জুন) মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ প্যাকেজের সবগুলোর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

এতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে নেই- ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এমন নয় লাখ যুবকে (যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই যুব নারী) প্রশিক্ষিণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত আর্ন প্রকল্প সেই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে একটি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে না থাকা এই জনগোষ্ঠীকে বলা হচ্ছে নিট (Not in Education, Employment or Training) । প্রকল্পটি বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়া শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে, যা দেশের যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, আর্ন প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তায় পরিচালিত একটি উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলের যুবদের, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে এই ধরণের নিষ্ক্রিয় যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৈশ্বিক গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ এবং এই হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই নিষ্ক্রিয় যুব সমাজ একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। ক্রমবর্ধমান নিষ্ক্রিয় যুব সমাজকে কর্মমুখী করা ও এদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত প্রথম ও একমাত্র প্রকল্প হলো আর্ন।

বিশ্বব্যাংকের ক্রয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮ বিভাগের প্রকল্প এলাকাকে ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক (Quality and Cost Based Selection-QCBS) দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৪০১টি প্রতিষ্ঠান (Single Entity and Joint Venture) Expression of Interest (EoI) দাখিল করেছিল। যার মধ্যে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্তদের মধ্যে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব (RFP) দাখিল করে। দাখিলকৃত প্রস্তাবসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করে প্রতিটি প্যাকেজের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবের চুড়ান্ত মুল্যায়ন করা হয় এবং সর্বাধিক সমন্বিত নম্বরপ্রাপ্ত এনজিও’র সাথে সমঝোতাপূর্বক খসড়া চুক্তি করা হয়। ক্রয় প্রস্তাবগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশকৃত এবং বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো ব্র্যাক , সেভ দ্যি চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন। ব্র্যাক কাজ করবে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে। সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়, কেয়ার বাংলাদেশ তিন পার্বত্য জেলা এবং খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা এবং সিলেট বিভাগে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারদের নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। সেসব কেন্দ্রের মাধ্যমে আট লাখ যুবক ও যুব নারীকে বর্তমান সময়ের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ দেখাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণের প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে।

EARN প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, এই প্রকল্প কোনো সাধারণ ‘প্রশিক্ষণ/দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্প নয় বরং বিভিন্ন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম কার্যক্রম। এটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য বাংলাদেশি যুবদের জন্য সমন্বিত (Holistic) সহায়তা নিশ্চিত করা। প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের যুব কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতমুখী খাতসমূহ বিকাশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

EARN প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সুনিশ্চিত করা। প্রকল্পটি সেইসব যুবক ও যুব নারীর জন্য কাজ করবে, যারা সাধারণত আনুষ্ঠানিক সহায়তা পায় না। কারণ অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ যুব সমাজ এই সকল প্রশিক্ষণের সুবিধা লাভে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশে এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ যুব সহায়তা প্রকল্প, যা যুবকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য সমন্বিত সহায়তা প্রদান করবে। এ প্রকল্পটি শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান নয় বরং যুবকদের প্রকৃত প্রয়োজন এবং আঞ্চলিক, জাতীয় ও বৈশ্বিক শ্রম বাজারের চাহিদা নিরূপণ করে সেই অনুযায়ী সহায়তা করবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের অনেক যুব শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও অবস্থানগত সীমাবদ্ধতা, সিড ফান্ডের অভাব, ইন্টার্নশিপ ও অন্যান্য সহায়তার অভাবে অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে না। এই প্রকল্প সেই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে কাজ করবে।

চারটি কম্পোনেন্টে সম্পাদন হবে EARN প্রকল্পের কাজ। কম্পোনেন্ট ১: বিকল্প শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা। কম্পোনেন্ট ২: স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা প্রদান। কম্পোনেন্ট ৩: গ্রামীণ পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় যুবদের বিশেষ করে যুব নারীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং কম্পোনেন্ট ৪: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

Copied from: https://rtvonline.com/

আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

সেমিনার বা কর্মশালার সম্মানী।
16/06/2026

সেমিনার বা কর্মশালার সম্মানী।

16/06/2026

Extreme Poverty by Country (1992–2026) Global extreme poverty—measured by the World Bank's absolute international poverty line of $2.15 per day—has shifted dramatically between 1992 and 2026. While the global rate plummeted from over 35% in the early 1990s to single digits, this progress has b...

একনেকে অনুমোদন পেল চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ৫ প্রকল্পজাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চীনা অর্থনৈতিক ও...
16/06/2026

একনেকে অনুমোদন পেল চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ৫ প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পসহ মোট পাঁচটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১র (একনেক) সভা। ছবি: সংগৃহীত ০ লাখ টাকা। এছাড়া প্রকল্প ঋণ হিসেবে আসবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অনুমোদন পাওয়া পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প।

সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো-

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প

ফেনী জেলার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)

করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প

পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প

১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প

এছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের চারটি প্রকল্প সম্পর্কে সভায় অবহিত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। প্রকল্পগুলো হলো- ১. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প; ২. নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প; ৩. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগর বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প; ৪. প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ ....

Address

Mirpur
1216

Telephone

+8801912259801

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Project Management Consultants-প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Project Management Consultants-প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক:

Share