09/10/2026
*আমাদের দাবী একটাই - সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চাই! আর কতকাল অপেক্ষা করবো?*
আমি তারিক রহমান ছানু,
জেনারেল সেক্রেটারি, গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট ইউকে।
আজ বুক ভরা কষ্ট আর চোখ ভরা জল নিয়ে লিখছি। লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্টের ৩ নম্বর টার্মিনালে দাঁড়িয়ে যখন দেখি Emirates, Qatar Airways, Turkish Airlines এর বিশাল বিশাল বিমান একের পর এক নামছে, তখন আমার বুকটা ফেটে যায়। মনে পড়ে আমার সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরের কথা।
ম্যানচেস্টার - লন্ডন থেকে ২০০ মাইল দূরের একটা শহর। সেখানেও একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। প্রতিদিন সেখানে ১০০+ ফ্লাইট নামে, বিদেশী এয়ারলাইন্স আসে, মানুষ সম্মানের সাথে দেশে যায়।
আর আমার সিলেট? ৫০ লক্ষ মানুষের প্রাণের শহর, ১০ লক্ষ প্রবাসীর জন্মভূমি। যেই সিলেটের রেমিটেন্সে বাংলাদেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে, সেই সিলেটের বিমানবন্দরে কেন বিদেশী এয়ারলাইন্স আসে না? কেন?
এই প্রশ্নটা আজ প্রতিটা সিলেটির।
*মানুষ সামনের দিকে যায়, আমরা কেন পেছনে যাচ্ছি?*
আজ থেকে ১০-১২ বছর আগেও ওসমানী বিমানবন্দরে লন্ডন থেকে সরাসরি বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট নামতো। আমরা গর্ব করে বলতাম, আমাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। আজ ২০২৬ সালে এসে আমরা কি দেখছি? একটা সুন্দর বিল্ডিং আছে, নতুন রানওয়ে হয়েছে, কিন্তু ফ্লাইট নেই। নামে আন্তর্জাতিক, কাজে ডোমেস্টিক। এটা কি আমাদের সাথে তামাশা নয়?
আমার বৃদ্ধ মা যখন আমাকে বিদায় দিতে এয়ারপোর্টে আসেন, তখন তিনি ওসমানীতে ৩ ঘণ্টা বসে থাকেন, তারপর শুনেন ফ্লাইট ঢাকা হয়ে যাবে। ঢাকায় ৮ ঘণ্টা ট্রানজিট। একজন ৭০ বছরের মা, একজন অসুস্থ বাবা, ছোট বাচ্চা নিয়ে একজন মা - তারা ঢাকা এয়ারপোর্টে মাটিতে বসে থাকে। তাদের লাগেজ হারিয়ে যায়, তাদেরকে হয়রানি করা হয়। এই কষ্ট আর কতদিন সহ্য করবো?
একজন মৃত প্রবাসীর লাশও আজ সিলেটে সরাসরি আসতে পারে না। তার লাশটাকেও ঢাকায় নামতে হয়। একজন মা তার ছেলের লাশের জন্য ঢাকা এয়ারপোর্টে বসে কাঁদে। আল্লাহর কসম, এর চেয়ে বড় জুলুম আর হতে পারে না।
*বিদেশী এয়ারলাইন্স কেন আসে না?*
লন্ডনে হিথ্রো আছে, ম্যানচেস্টারে এয়ারপোর্ট আছে - সেখানে সব এয়ারলাইন্স আসতে পারে। কারণ সেখানে ওপেন স্কাই পলিসি আছে। প্রতিযোগিতা আছে।
কিন্তু সিলেটে কেন Emirates আসতে পারে না? Qatar Airways কেন আসতে পারে না? Turkish Airlines কেন আসতে পারে না? যাত্রী কি নেই? প্রতি সপ্তাহে লন্ডন থেকে সিলেট রুটে ১০ হাজারের বেশি যাত্রী টিকেট খোঁজে। ঈদের সময় টিকেট পাওয়া যায় না।
আসল কারণ একটাই - সিন্ডিকেট। কিছু মানুষ চায় না সিলেটে বিদেশী এয়ারলাইন্স আসুক। তারা চায় ঢাকা হয়ে সবাই যাক, যাতে তাদের ব্যবসা ঠিক থাকে। তারা আমাদেরকে জিম্মি করে রেখেছে। ফলে £700 এর টিকেট আমাদেরকে £1300 দিয়ে কিনতে হয়। আমাদের কষ্টের টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে।
আমরা ভিক্ষা চাই না, আমরা অধিকার চাই। আমরা চাই ওপেন স্কাই। সিলেটে সব এয়ারলাইন্সকে অনুমতি দেওয়া হোক। প্রতিযোগিতা হলে টিকেটের দাম অর্ধেক হয়ে যাবে, সেবা ভালো হবে।
*যাদের জন্য আটকে আছে, আমরা আল্লাহর কাছে বলে দেব...*
আমরা জানি কারা এই ফ্লাইট আটকে রেখেছে। আমরা তাদের নাম জানি। তারা মনে করছে আমরা প্রবাসীরা চুপ থাকবো। না, আমরা আর চুপ থাকবো না।
আমরা সিলেটের ৫০ লক্ষ মানুষ আর প্রবাসের ১০ লক্ষ মানুষ যদি আল্লাহর দরবারে হাত তুলি, আর বলি - হে আল্লাহ, যারা আমাদের মা-বাবাকে এয়ারপোর্টে কাঁদিয়েছে, যারা আমাদের লাশকেও শান্তিতে দেশে যেতে দেয় না, তুমি তাদের বিচার করো - তাহলে সেই বিচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না।
আমাদের দাবী স্পষ্ট:
১. ওসমানী বিমানবন্দরে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, দুবাই, জেদ্দা, নিউ ইয়র্ক থেকে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে হবে।
২. Emirates, Qatar Airways, Turkish Airlines সহ সকল বিদেশী এয়ারলাইন্সকে সিলেটে নামার অনুমতি দিতে হবে।
৩. টিকেটের দামের এই লুটপাট বন্ধ করতে হবে।
আমি গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট ইউকের পক্ষ থেকে সকল সিলেটবাসীকে বলছি - আসুন দল-মত ভুলে এক হই। আজ যদি আমরা চুপ থাকি, আমাদের সন্তানরা আমাদের ক্ষমা করবে না।
সিলেট আমাদের মা, ওসমানী আমাদের অহংকার। এই অহংকার নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেব না।
জাগো সিলেটবাসী, জাগো!
*ইতি,*
*তারিক রহমান ছানু*
*জেনারেল সেক্রেটারি*
*গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট ইউকে, লন্ডন*